advertisement
আপনি দেখছেন

বিশাল আকৃতির গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। যার সংঘর্ষে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এই পৃথিবী। তাই গ্রহাণুটির গতিপথ পরিবর্তনের মাধ্যমে পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেবেন চীনের বিজ্ঞানীরা। এ লক্ষ্যে তারা মহাকাশে ২০টির বেশি রকেট পাঠাতে চান।

asteriod rushing toward earthবিশাল গ্রহাণু ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে, ‘ব্যবস্থা’ নেবে চীন

লাইভ সাইন্সের খবরে বলা হয়েছে, বেন্নু নামের গ্রহাণুটি ৮৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন ওজনের একটি পাথর। পৃথিবীর কক্ষপথের ২১৭৫ থেকে ২১৯৯ এর মধ্যে যা ৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন মাইলের পথ আবর্তন করে। যদিও এটির পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য হচ্ছে এই গ্রহাণুটির গতিপথ পরিবর্তন করা যাতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।

খবরে বলা হয়েছে, যে গ্রহাণুটি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে, সেটি এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের মতো লম্বা। কোনো কারণে যদি এটির সঙ্গে পৃথিবীর ধাক্কা লাগে তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে পৃথিবী। বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীতে আঘাত হানার সময় ১২ হাজার মেগাটন গতিতে আঘাত করবে বেন্নু গ্রহাণুটি। জাপানের হিরোশিমায় আঘাত হানা পারমাণবিক বোমার চেয়ে যা ৮০ হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী।

chinese scientists to send rocketবিশাল গ্রহাণু ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে, ‘ব্যবস্থা’ নেবে চীন

জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে গত ২৩ মার্চ থেকে গণনা করছেন চীনের জাতীয় মহাকাশ বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ৯৯২ টন ওজনের ৫টি রকেট যদি প্রতিনিয়ত পাথরটিকে চাপ দিতে থাকে, তাহলে গ্রহাণুটিকে প্রায় ৬ হাজার মাইল দূরে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। চীনা বিজ্ঞানীদের এই গণনার বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে আইকারাস জার্নালে।

এ বিষয়ে চীনের জাতীয় মহাকাশ বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রকৌশলী ও গবেষক মিংতাও তার গবেষণাপত্রে বলেছেন, পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীকুলের জন্য এই গ্রহাণুর প্রভাব একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছ। এই হুমকি থেকে রক্ষা পেতে হলে গ্রহাণুটিকে তার অবস্থান থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বিজ্ঞানীরা পৃথিবীকে রক্ষা করতে ব্রুস উইলিসের নির্মিত সিনেমা ‘আর্মেজেডন’ এর মতো পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চান। অর্থাৎ পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করে তারা বিশাল আকৃতির ওই পাথরটিকে ধ্বংস করতে চান। রকেটগুলো থেকে ছোড়া পারমাণবিক বোমা পাথরটিকে আঘাত করে সেটিকে ছোট ছোট আকারে ভেঙে ফেলবে। যাতে করে পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ এড়ানো যায়। আর যদি পৃথিবীতে আঘাত হানেও তাহলে পরিস্থিতি যেন ভয়াবহ না হয়।