advertisement
আপনি দেখছেন

শক্তির প্রয়োজনে এবার চাঁদে বসানো হবে পরমাণু চুল্লি­। সূর্যের ওপর ভরসা না করে এই চুল্লি­ থেকে উৎপাদিত শক্তি ব্যবহার হবে নভোচারীদের থাকার ব্যবস্থা ও খনিজ উত্তোলনসহ নানা ধরনের কাজে। সেই লক্ষ্যে পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটির একটি সূত্র শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করে। নাসা, এবিসিনিউজ ও এপি।

nasa install nuclear reactor moonএবার চাঁদে পরমাণু চুল্লি বসাবে নাসা!

খবরে বলা হয়েছে, চাঁদে প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য আর সূর্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে চায় না নাসা। তাই চাঁদে পরমাণু চুল্লি বানানোর পরিকল্পনা করছে তারা। এজন্য আমেরিকার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি বিভাগের অধীন ‘আইড্যাহো ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির (আইএনএল)’ সঙ্গে একত্রে কাজ করবে সংস্থাটি। আইএনএল-ই আমেরিকার পরমাণু শক্তি সংক্রান্ত গবেষণার শীর্ষ গবেষণাগার।

নাসা জানিয়েছে, চলতি দশকের শেষ দিকে চাঁদে সেই পরমাণু চুল্লি বসানোর কথা ভাবা হয়েছে। চাঁদে সফল হলে সভ্যতার দ্বিতীয় উপনিবেশের শক্তির প্রয়োজন মেটাতে সূর্যের ওপর নির্ভরতা ছেড়ে ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলেও পরমাণু চুলি­ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এই পদ্ধতি পৃথিবীতেও পরমাণু শক্তির বেসামরিক ব্যবহারের জন্য আগামী দিনে খুব জরুরি হয়ে উঠবে।

চাঁদে ও ভবিষ্যতে মঙ্গলে পরমাণু চুল্লি­ বসানোর জন্য নাসার প্রকল্পটির নাম ‘ফিশান সারফেস পাওয়ার প্রজেক্ট (এফএসপিপি)’। পরমাণু চুল্লি­টি বানানো হবে পৃথিবীতে। তারপর সেটি চাঁদে নিয়ে যাওয়া হবে মহাকাশযানে চাপিয়ে। কিভাবে সেই পরমাণু চুলি­ বানালে ভালো হয় তার পরিকল্পনা জমা দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে টেন্ডার ডাকা হয়েছে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি তার চূড়ান্ত সময়সীমা।

সেই চুল্লি­ এতটাই বড় হতে হবে, যাতে চাঁদের রুক্ষ ও খুব ঠান্ডা পরিবেশেও তা টানা ১০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে অন্তত ৪০ ওয়াট বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদন করে যেতে পারে।

নকশা অনুযায়ী, সেই পরমাণু চুলি­ কোনো মানুষ ছাড়াই চলবে। তাকে পৃথিবী থেকে কোনো যন্ত্রের নির্দেশেও চালানো হবে না। সেই চুল্লি নিজে নিজেই চালু হবে ও বন্ধ হবে। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময় পরপর। সেই চুল্লি­ এমনভাবে বানানো হবে, যাতে এক জায়গা থেকে তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যায় শক্তি উৎপাদনের প্রয়োজনে। তা দিয়ে চাঁদে নামা ল্যান্ডার ও রোভারও যাতে কাজকর্ম করতে পারে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে নির্মাতাদের।