advertisement
আপনি দেখছেন

পৃথিবীর ইতিহাসে প্রাণিজগতের বিবর্তন একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তেমনি প্রজাতিগত বিলুপ্তিও নতুন কিছু নয়। তবে এবার প্রাণিজগতের বড় একটি প্রজাতি বিলুপ্তির আশঙ্কা করছেন গবেষকরা। যার ফলে কালের অতলে হারিয়ে যেতে পারে মানুষও।

incects on flowerফুলের পরাগায়নের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে সাহায্য করে কীট-পতঙ্গ

সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া এক গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, পৃথিবীর বাস্তুসংস্থানের অতি প্রয়োজনীয় উপাদানের একটি হচ্ছে কীট-পতঙ্গ। কিন্তু খাদ্য শৃঙ্খলের অতি প্রয়োজনীয় এ উপাদনটিই এখন প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশ পোকা-মাকড় বিলুপ্তির পথে রয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খাদ্য শৃঙ্খলে।

যুক্তরাজ্যের ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্টের হয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটি লেখেন অধ্যপক ডেভ গৌলসন। ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের জীববিজ্ঞানের এ অধ্যাপক জানান, প্রাণিজগতের বড় ধরণের এ বিলুপ্তি প্রকৃতিতে নানা ধরণের প্রভাব ফেলবে। কারণ শুধু কীট-পতঙ্গের মাধ্যমেই প্রকৃতির চারভাগের তিনভাগ ফসলের পরাগায়ন হয়ে থাকে। তাই এভাবে পোকা-মাকড়ের বিলুপ্তি ঘটতে থাকলে পৃথিবীতে স্ট্রবেরির মতো ফলও টিকিয়ে রাখা যাবে না। পাশাপাশি মানবজাতির জন্যও খাবার সংকট দেখা দিবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কিছু সহজ পদক্ষেপের মাধ্যমেই প্রকৃতিতে পোকা-মাকড়ের বৈচিত্র ও প্রাচুর্য রক্ষা করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে বন্যপ্রাণি বান্ধব ফসল উৎপাদন অব্যাহত রাখা। পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণায়নেও প্রতিও নজর দিতে হবে।

এদিকে চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা জানান, প্রতিবছর দুই দশমিক ৫ শতাংশ করে কীট-পতঙ্গ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। বিলপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে আরো ৪০ শতাংশ।

যেমন- গত ২৫ বছরে পৃথিবীর বুক থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে ফ্রাঙ্কলিনের ভ্রমর। যুক্তরাষ্ট্রের ও হাইওতে প্রজাপতির সংখ্যা কমে তিন শতাংশ থেকে এক শতাংশে নেমে গেছে। ১৯৬৮ সাল থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ব্রিটেনে বড় মথের সংখ্যা কমেছে ২৮ শতাংশ। তবে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বাহিরে এসব পোকা-মাকড়ের বিলুপ্তি সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। শুধু কঙ্গো, আমাজন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চিরহরিৎ বন ধ্বংসের কারণে সেসব জায়গার বিলুপ্তি সম্পর্কে অনুমান করা যায়।

গৌলসনের মতে, প্রকৃতিতে পাখির সংখ্যা হ্রাস পাওয়া থেকেও পোকা-মাকড়ের বিলুপ্তির তথ্য পাওয়া যায়। কারণ পাখিরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খাদ্যের জন্য কীট-পতঙ্গের ওপর নির্ভর করে থাকে।

তিনি বলেন, পোকা-মাকেড়ের বিলুপ্তি ঘটলে খাদ্য শৃঙ্খলে যেমন বড় প্রভাব পড়বে, খাদ্য সংকট দেখা দিবে। তেমনি খাদ্যের অভাবে অন্যান্য প্রাণির মতো মানুষও কালের অতলে হারিয়ে যেতে পারে।

sheikh mujib 2020