advertisement
আপনি দেখছেন

দিন দিন বিশ্বের শহরগুলোতে বাড়ছে রাইড শেয়ারিংয়ের চাহিদা তথা জনপ্রিয়তা। কিন্তু এর ফলে হুমকিতে পড়ছে পরিবেশ। গবেষকরা বলছেন, রাইড শেয়ারিংয়ের কারণে অতিরিক্ত কার্বন নির্গমন হচ্ছে। এতে উষ্ণতা যেমন বাড়ছে তেমনি ঝুঁকিতে পড়ছে পরিবেশ।

ride sharing uber lyft

আমেরিকার বোস্টন, শিকাগো, লস এঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক, সানফ্রান্সিসকো, সিয়াটল এবং ওয়াশিংটন শহরে চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, একজন যাত্রী বাস, ট্রেন, সাইকেলে বা হেঁটে গেলে যে পরিমাণ কার্বন নির্গমণ হতো, রাইড শেয়ারিং ব্যবহার করায় তার চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি কার্বন নির্গমন হয়৷

গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর ফলে বাতাসে যে পরিমাণ কার্বন নির্গমন হওয়ার কথা, রাইড শেয়ারিং জনপ্রিয় হওয়ার ফলে এর পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে৷ অনেকেই বাড়তি কিছু আয়ের জন্য কেবল যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যেই রাস্তায় নামাচ্ছেন গাড়ি৷ এর ফলে স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ গাড়ি সড়কে থাকার কথা, তার চেয়ে বেশি গাড়ির চাপ দেখা যাচ্ছে শহরগুলোতে৷

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীদের একটি সংগঠন ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টস এ তথ্য প্রকাশ করেছে বলে ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছ।

পাশাপাশি উবার এবং লিফট-এর মতো রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইলেক্ট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো, ভাড়া বাড়ানো এবং বিভিন্ন গণপরিবহন স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোসহ বেশ কিছু পরামর্শও দিয়েছে সংগঠনটি৷

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই বছরে বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন শহরের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যানজট সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখছে যানজট৷ কারণ একদিকে গণপরিবহন ব্যবহার করা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে, ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করা মানুষের সংখ্যা কমছে না৷

রাইড শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে একই গাড়ি কয়েকজন যাত্রীর শেয়ার করা হয়। ফলে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে যে পরিমাণ কার্বন নির্গমন হয়, রাইড শেয়ারিংয়ে মাথাপিছু কার্বন নির্গমন তার চেয়ে কম হওয়ার কথা৷ কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টোটা৷

গবেষকরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেবল ১৫ শতাংশ রাইড শেয়ারিং ট্রিপে একাধিক যাত্রী থাকেন৷ বাকি ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এক যাত্রী নিয়েই যাত্রা করে রাইড শেয়ারিং গাড়ি৷

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ি পুরনো হলেও রাউড শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত নতুন গাড়ি ব্যবহার করা হয়৷ ফলে এ গাড়িগুলো তুলনামূলক বেশি জ্বালানিবান্ধব হয়৷ কিন্তু বেশিরভাগ সময় যাত্রীবিহীন অবস্থায় শহরে ঘুরে বেড়ানো গাড়িগুলো ক্রমাগত কার্বন নির্গমন করতেই থাকে৷

তবে উবার এই গবেষণার তথ্য নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও এক বিবৃতিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিভিন্ন শহরের সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে৷

আরেক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান লিফট বিবৃতিতে এই গবেষণাকে ‘ভ্রান্তিকর' বলে উল্লেখ করেছে৷ লিফট সবসময়ই ইলেক্ট্রিক গাড়ি ব্যবহারকে উৎসাহিত করে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি৷

দুটি প্রতিষ্ঠানই ইলেক্ট্রিক স্কুটার ও বাইক সরবরাহ করে৷ একই সঙ্গে বিভিন্ন গণপরিবহনের তথ্যও অ্যাপের মাধ্যমে সরবরাহ করে৷ বিভিন্ন শহরে এরই মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ির পক্ষে প্রচারণাও চালিয়েছে তারা৷