advertisement
আপনি দেখছেন

হুমকি-বিদ্বেষমূলক তথ্যের প্রচার বন্ধে কন্টেন্ট ওভারসাইট বোর্ড গঠন করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। যেখানে ইয়েমেনের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাওয়াক্কল কারমানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এতে খেপেছে আরব দশেগুলো। তাদের দাবি, কারমানের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও বক্তব্যের কারণে ফেসবুকের উদ্যোগ বিফলে যেতে পারে।

tawakkol karmanতাওয়াক্কল কারমান

তাওয়াক্কল আবদেল-সালাম খালিদ কারমান মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী যিনি ২০১১ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন।

ইয়েমেনের রাজনৈতিক দল আল-ইসলাহ পার্টির বড় একজন নেত্রী কারমান। জানা যায়, দলটির সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের খুব ঘনিষ্ঠতা আছে। দেশটিতে ব্রাদারহুডের বিভিন্ন শাখা খুলতে তার বড় ভুমিকা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফেসবুকের কন্টেন্ট ওভারসাইট বোর্ডে কারমানের অন্তর্ভুক্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই সামাজিক মাধ্যমে মুসলিম ব্রাদারহুডের বিশ্বাসগুলো ছড়িয়ে পড়বে।

কর্নারস্টোন গ্লোবাল এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা ঘানেম নুসাইবাহ বলেন, মুসলিম ব্রাদারহুডের যে উগ্র বিশ্বাস রয়েছে তার বিপক্ষে কোনো সময় কথা বলেননি কারমান। তিনি ফেসবুককে দলটির মতবাদ ছড়িয়ে দিতে ব্যবহার করবেন না এ বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই।

facebook logoফেসবুক লোগো

সন্তাসবাদ ও উগ্রবাদ বিশেষজ্ঞ হানি নাসিরা বলেন, ইয়েমেনের সাবেক শাসক আলী আবদুল্লাহ সালেহ’র পতনের জন্য জনমত এক করতে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন কারমান। সে কারণেই তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক বিশ্বাস অনেক পরিবর্তিত হয়ে একপেশে হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, নোবেল জেতার পর তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ইউসুফ আল-কারাদোয়ারি কর্তৃক কাতারে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। সে সময় কারমানকে একটি বিতর্কিত বই উপহার দেয়া হয়, যার নাম ‘ফিকহ-আল-জিহাদ’।

তিনি আরো বলেন, উগ্র সন্ত্রাসবাদকে বিশ্বাস করে এমন একজন ব্যক্তিত্বকে দায়িত্বে নিযুক্ত করায় ফেসবুকের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ফেসবুকের কন্টেন্ট ওভারসাইট বোর্ড সাধারণত কোনো বার্তার অতীত ও ভবিষ্যৎ প্রভাব পর্যালচনা করে তারপর তা সবার উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছি যে এই কমিটিতে অনেকেই আছেন যাদের বিশ্বাস কিছু মানুষের সঙ্গে খাপ খায় না।

তবে কারমানের এই নতুন দায়িত্ব নিয়ে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়া নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

কারমান প্রসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি একজন ইসলামিক একটিভিস্ট যিনি খুব নান্দনিক উপায়ে দৃঢ়ভাবে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরতে পেরেছেন। তাকে তুরস্ক ও কাতার থেকে অনেক সহায়তা করা হয়েছে।

ফেসবুকের প্রতি উপদেশ দিয়ে তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির উচিৎ সব সম্প্রদায়কে প্রাধান্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া। কারমানের যে বিশ্বাস তা সেখানে ছড়িয়ে পড়লে এই মাধ্যমটি বিদ্বেষমূলক তথ্য ছড়ানোর অন্যতম উপায়ে পরিণত হবে।