advertisement
আপনি দেখছেন

দীর্ঘদিন ধরে চলা ইন্টারনেট খাতে ভ্যাট জটিলতার সমাধান না হলে সারাদেশে কিছু সময়ের জন্য ইন্টারনেট বন্ধের হুঁমকি দিয়েছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি। আজ শনিবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ হুমকি দেন সংগঠনটির সভাপতি আমিনুল হাকিম।

internet russia

তিনি বলেন, জুলাই মাসের মধ্যে ভ্যাট জটিলতার সমাধান না হলে সীমিত আকারে সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করা হবে। সুবিধা মতো সময়ে দুই থেকে এক ঘণ্টার জন্য এই সেবা বন্ধ রাখা হবে। সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। দাবি মানা না হলে ইন্টারনেট বন্ধের এ কর্মসূচি ধাপে ধাপে অর্থাৎ প্রতিমাসে বা সপ্তাহে সপ্তাহে চলমান থাকবে।

আমিনুল হাকিম বলেন, বর্তমানে সারাদেশে ৮০ লাখের বেশি বাড়িতে তারের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। আর ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গ্রাহক। করোনার ঝুঁকির মধ্যেও কর্মীদের বিল আদায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে গেলেও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে আসছেন।

জানা গেছে, ইন্টারনেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য (আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন) খাতে ১৫ শতাংশ আরোপিত ভ্যাট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এটির কারণে চলমান ইন্টারনেট সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে আইএসপিএবি মনে করছে।

ispab aminul hakimআইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম

এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি বলেন, ৫ শতাংশ ভ্যাট ইন্টারনেট গ্রাহক থেকে আদায় করে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো। আর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ভ্যালু চেইনের অন্যান্য খাত আইএসপিগুলো থেকে আদায় করে থাকে। ফলে ৫ শতাংশ ভ্যাট গ্রাহক থেকে আদায় করা হলেও আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএনকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। সবমিলে প্রায় ৩৫ শতাংশ ভ্যাট বাবদ খরচ দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ইন্টারনেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য খাতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারিত হয়। এরপর থেকেই ইন্টারনেট সেবা খাতে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ইন্টারনেটের প্রতিটি স্তরে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর।

কিন্তু ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটে ফের ইন্টারনেট সেবায় ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং অন্যান্য স্তরে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করে বিষয়টিতে আবারও জটিলতা সৃষ্টি হয়। যার ফলশ্রুতিতে প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বড়ছে।

এখন যদি ইন্টারনেটের সকল ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ অথবা ০ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাহলে জটিলতা নিরসন হবে। ইন্টারনেটের মূল্য ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কাও দূর হবে। এর ফলে সর্বস্তরের ইন্টারনেট গ্রাহক ও দেশের জনসাধারণ অপেক্ষাকৃত কম দামে এ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানান আমিনুল হাকিম।

sheikh mujib 2020