advertisement
আপনি পড়ছেন

১৯ ফেব্রুয়ারি, সোমবার সন্ধ্যায় খুলে যাচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। বাংলাদেশে চালু হচ্ছে সর্বাধুনিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা নতুন প্রজন্মের ফোরজি। কিন্তু ফোরজি কি সত্যিই সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে? নাকি দেশের কোটি কোটি মোবাইল গ্রাহককে ফেলবে নতুন ভোগান্তিতে? এমন প্রশ্ন উঠছে যৌক্তিক কারণেই।

4g comes to bangladesh 1

ফোরজি পাবেন কেবল স্মার্টফোন ব্যবহারকারিরা। বাংলাদেশে যতো স্মার্টফোন ব্যবহারকারি আছেন, তাদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ স্মার্টফোন ফোরজি নেটওয়ার্ক গ্রহণের ক্ষমতা সম্পন্ন। আবার ফোরজি নেটওয়ার্কের উপযুক্ত স্মার্টফোন হলেই যে নতুন এই সেবা নিতে পারবেন, তারও নিশ্চয়তা নেই। কারণ বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা যে প্রযুক্তিতে স্থাপন করা হচ্ছে, কোনো স্মার্টফোন সেই ব্যবস্থা সমর্থন না করলে তাতে ফোরজি ব্যবহার করা যাবে না।

বিশ্লেষকগণ বলছেন, বাংলাদেশের ফোরজি নেটওয়ার্ক স্থাপিত হচ্ছে এফডিডি-এলটিই ৯০০ বা ১৮০০ বা ২১০০ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে। এই প্রযুক্তি ইউরোপীয় মানের। সুতরাং কারো স্মার্টফোন যদি আমেরিকা অঞ্চলের মান অনুসারে তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে সেই স্মার্টফোনে বাংলাদেশের ফোরজি কাজ করবে না। এ ক্ষেত্রে স্মার্টফোন বদলে ফেলা বা কিংবা মোবাইল অপারেটর কর্তৃক নেটওয়ার্ক আপগ্রেপকরণ ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

4g comes to bangladesh

ফোরজি পেতে হলে বাংলাদেশর বিদ্যমান স্মার্টফোন ব্যবহারকারিদের সবার আগে বদলে ফেলতে হবে তাদের সিম। কারণ ফোরজির জন্য নতুন মানসম্পন্ন সিম ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশের বৃহৎ তিন মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক বেশ কিছুদিন আগে থেকেই তাদের গ্রাহকদের সিম বদলে ফেলার পরামর্শ দিয়ে আসছে।

সিম বদলালেই কি ফোরজি পাওয়া যাবে— এখন শোনা যাচ্ছে এই প্রশ্ন। এর উত্তর খুঁজতে গিয়েই জানা গেছে যে, সব স্মার্টফোন ফোরজি সমর্থন করবে না। ফোরজির জন্য ফোনটির সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন হতে হবে। আবার সেটা হলেও ফোরজি নিশ্চিত নয়। ফোনটি হতে হবে বাংলাদেশে যে প্রযুক্তিত ফোরজি স্থাপন করা হচ্ছে, সেই প্রযুক্তির সঙ্গে মানানসই।

অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন স্মার্টফোন ব্যবহারকারির মধ্যে যে ১০ ফোরজি পাবেন, তাদেরও নানা ভোগান্তির মধ্য দিয়ে নতুন নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে হবে। তবে যারা বাংলাদেশে বৈধভাবে ব্যবসা করে, এমন প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা দেয়া ফোরজি সমর্থনযোগ্য ফোন কিনেছেন, তাদের কোনো সমস্যা নেই। তারা সরাসরি ফোরজি পেয়ে যাবেন।

কিন্তু বাকি ৯০ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহারকারির কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তর হলো— তাদেরকে স্মার্টফোন বদলে ফেলতে হবে। অথবা প্রচলিত থ্রিজি নেটওয়ার্ক নিয়েই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হবে।