advertisement
আপনি পড়ছেন

আজ থেকে শুরু হলো মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি বা এমএনপি সেবার অপারেশনাল এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম। বহুল প্রতীক্ষিত এই সেবাকে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর ফলে গ্রাহকেরা তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি পরিবর্তন না করেই অন্য অপারেটরের ভয়েস ও ডাটা সেবা নিতে পারবেন। তবে এ জন্য কিছু অর্থও ব্যয় করতে হবে। কিন্তু কিভাবে এই মোবাইল অপারেটর বদলাবেন?

mnp services

সোমবার বিটিআরসির প্রধান সম্মেলন কক্ষে এ সেবার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালুর বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সেবার কারিগরি ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরা হয়।

এমএনপি বাস্তবায়নে স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয়ের দায়ত্বিপ্রাপ্ত র্কমর্কতা ব্রিগেডয়িার জেনারেল মোঃ মোস্তফা কামাল জানান, নির্ধারিত ফি দিয়ে যেকোনো গ্রাহক অপারেটর বদল করতে পারবেন। আজ থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা পাওয়া যাবে।

mnp service start

বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন্স বিভাগের এই মহাপরিচালক বলেন, মোবাইল নম্বর পোর্ট্যাবিলিটি বা এমএনপি সেবা চালু বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য একটি বড় পরিবর্তন। এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে আরেকটি ধাপ এগুলো বাংলাদেশ।

এ সময় বিটিআরসি বিটিআরসি চেয়ারম্যান মোঃ জহুরুল হক, বিভিন্ন বিভাগের কমিশনার, মহাপরিচালক, পরিচালক ও এমএনপি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ইনফোজিলিয়ান বিডি টেলিটেকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সেবা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এমএনপি প্রসেসের কারিগরি ও বাণিজ্যিক মডেল নির্ধারণ করেছে। এর ওপর ভিত্তি করেই এমএনপি, মোবাইল অপারেটর, আইজিডব্লিউ, আইসিএক্স, আইপিটিএসপি, পিএসটিএন অপারেটর প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের সিস্টেম স্থাপন, আপগ্রেডেশন এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কারগরি পরীক্ষা- নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ ও স্লোভেনিয়ার যৌথ কনসোর্টিয়াম ইনফোজিলিয়ান বিডি টেলিটেককে মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে দেশে এমএনপি সেবা প্রদানের জন্যে একটি লাইসেন্স দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপারেশন চালুর পরবর্তী ০৬ মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের মোবাইল গ্রাহকের কমপক্ষে ০১ শতাংশ, ০১ বছরের মধ্যে ০৫ শতাংশ এবং ০৫ বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ এ সেবার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

এছাড়া এমএনপি গাইডলাইনের শর্তানুযায়ী বাৎসরিক লাইসেন্স ফি ২৫ লক্ষ টাকা, রেভিনিউ শেয়ারিং (২য় বছর থেকে) ১৫ শতাংশ হারে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে ২য় বছর থেকে বাৎসরিক নিরীক্ষাকৃত আয়ের ০১ শতাংশ বিটিআরসিকে প্রদান করতে হবে।

যেভাবে অপারেটর বদল কার যাবে:

এ সেবা চালুর মাধ্যমে প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল গ্রাহকরা যেকোনো মোবাইল অপারেটরের সেবা নিতে পারবেন। প্রতিবার অপারেটর বদলাতে মোট ১৫৭ টাকা ৫০ পয়সা ব্যয় হবে। এর মধ্যে এমএনপি সেবার ফি বাবদ ৫০ টাকা, ভ্যাট বাবদ সাড়ে ৭ টাকা এবং সিম পরিবর্তনের জন্য ১০০ টাকা। যদিও এর আগে এমএনপি সেবার জন্য ৩০ টাকার ব্যয় হওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

সেবাটি নিতে হলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে নতুন একটি সিম (নম্বর আগেরটাই) নিতে হবে। আর সিমটি চালু হতে সময় লাগবে ৭২ ঘণ্টা।

অপারেটর কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, অপারেটর বদলের ক্ষেত্রে প্রতিবার নতুন সিম নিতে হবে। এ জন্য নির্ধারিত মূল্য গ্রাহককেই পরিশোধ করতে হবে। ব্যবহারকারী একবার এ সেবা চালু করলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণত অপারেটর বদল করা যাবে না। তবে কেউ যদি সেবা চালুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবারও অপারেটর বদলাতে চান, তাহলে তাকে অতিরিক্ত ১০০ টাকাসহ মোট ব্যয় করতে হবে ২৫৮ টাকা।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭২টি দেশে এমএনপি সেবাটি চালু রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত ২০১১ সালে এবং পাকিস্তান ২০০৭ সালে উক্ত সেবা চালু করে।