advertisement
আপনি পড়ছেন

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যান্ডউইথের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এর দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত 'ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাশ্রয়ী ডিজিটাল অবকাঠামো' শীর্ষক এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞোপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

internet

মোস্তাফা জব্বার বলেন, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণ যাতে সাশ্রয়ী দামে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে সরকার দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমিয়েছে। অতীতেও অনেকবার মূল্যহ্রাস করা হয়েছে। এর আগে ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে প্রতি এমবিপিএস ইন্টানেটের মূল্য ২৭ হাজার টাকা থেকে হ্রাস করে ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

জানা গেছে, ২০১১ সালের এপ্রিলে ব্যান্ডউইথের দাম কমিয়ে ১২ হাজার টাকায় আনা হয়। এরপর ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে ৮ হাজার টাকায়, দুই বছর পর ২০১৪ সালের এপ্রিলে ২৮০০ টাকা এবং ২০১৫ সালের শেষ দিকে সর্বোচ্চ ৯৬০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৩৬০ টাকায় ব্যান্ডউইথের দাম কমিয়ে আনা হয়। মন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের দিকে সারাদেশে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হতো মাত্র সাড়ে সাত জিবিপিএস। কিন্তু বর্তমানের সেটি প্রায় দেড়গুণের বেশি বেড়ে ১১শ জিবিপিএসে উন্নীত হয়েছে।

ক্যাটাগরি ভিত্তিক ইন্টারনেটের পুনঃনির্ধারিত মূল্য তালিকা:

আইআইজির জন্য আইপি ট্রানজিট: ৫০০-৯৯৯ এমবিপিএস পর্যন্ত ব্যান্ডউইথের ক্ষেত্রে প্রতি এমবিপিএসের চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫০ টাকা, পাশাপাশি নূন্যতম ২ বছর মেয়াদী চুক্তির ক্ষেত্রে প্রতি এমবিপিএসের চার্জ ধরা হয়েছে ৩৩৫ টাকা। ৫০ হাজার বা তার অধিক এমিবিপিএস ব্যান্ডউইথের ক্ষেত্রে প্রতি এমবিপিএস চার্জ ৩০০ টাকা এবং ন্যূনতম ২ বছর মেয়াদী চুক্তিতে প্রতি এমবিপিএসের চার্জ ধরা হয়েছে ২৮৫ টাকা।

আইএসপিএর জন্য আইপি ট্রানজিট: ৫-১৯ এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের ক্ষেত্রে (শুধু উপজেলা বা ইউনিয়ন হতে) প্রতি এমবিপিএসের চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা এবং ন্যূনতম ৩ বছর মেয়াদী চুক্তিতে প্রতি এমবিপিএসের চার্জ ধরা হয়েছে ৩৭৫ টাকা। ৪০ হাজার বা ততোধিক এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের ক্ষেত্রে প্রতি এমবিপিএস চার্জ ধরা হয়েছে ৩১০ টাকা এবং নূন্যতম ৩ বছর মেয়াদী চুক্তিতে প্রতি এমবিপিএস চার্জ ২৯০ টাকা।

বিটিসিএল লোকাল কনটেন্ট ট্রান্সমিশন চার্জ: ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সংযোগের স্থান বৃহত্তর ঢাকা এলাকায় হলে ট্রান্সমিশন চার্জ এমবিপিএস প্রতি ৩০ টাকা, এছাড়া সংযোগের স্থান ঢাকার বাইরে হলে ট্রান্সমিশন চার্জ এমবিপিএস প্রতি ১০০ টাকা।

শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান: ৫-৯৯ এমবিপিএস পর্যন্ত ব্যান্ডউইথের ক্ষেত্রে প্রতি এমবিপিএসের চার্জ ধরা হয়েছে ৩০০ টাকা এবং নূন্যতম ৫ বছর মেয়াদী চুক্তিতে প্রতি এমবিপিএসের চার্জ ধরা হয়েছে ২৭০ টাকা। ৩০০০ বা তার বেশি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের ক্ষেত্রে প্রতি এমবিপিএসের চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা এবং নূন্যতম ৫ বছর মেয়াদী চুক্তিতে প্রতি এমবিপিএসের ধরা হয়েছে চার্জ ১৮০ টাকা।

সরকারি অফিস, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট অফিস: ৫- ৪৯ এমবিপিএস পর্যন্ত ব্যান্ডউইথের ক্ষেত্রে প্রতি এমবিপিএসের চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯৫ টাকা এবং নূন্যতম ৫ বছর মেয়াদী চুক্তিতে প্রতি এমবিপিএসের চার্জ ৩৫৫ টাকা। ৩ হাজার বা তদূর্ধ্ব এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের ক্ষেত্রে প্রতি এমবিপিএস চার্জ ধরা হয়েছে ২৫০ টাকা এবং নূন্যতম ৫ বছর মেয়াদী চুক্তিতে প্রতি এমবিপিএসের চার্জ ২২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভিপিএন সেবা: সারাদেশব্যাপী এক রেটে ১-৫ এমবিপিএস পর্যন্ত ব্যান্ডউইথের ক্ষেত্রে প্রতি এমবিপিএসের চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ টাকা এবং ১০ হাজার বা এর বেশি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের ক্ষেত্রে প্রতি এমবিপিএসের চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা।

এছাড়া উপরে উল্লেখিত চার্জ হতে ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট সুবিধা দেওয়া হয়েছে গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকদের। পাশাপাশি উইন্ডোজ ওয়েব হোস্টিং প্যাকেজ এবং লিনাক্স ওয়েব হোস্টিং প্যাকেজের ব্যান্ডউইথের দাম কমানো হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৫ সালে সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ৯৬০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৩৬০ টাকায় কমিয়ে আনা হয়েছিল ব্যান্ডউইথের দাম। এবার তা সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা থেকে সর্বনিম্ন ১৮০ টাকায় কমিয়ে আনা হয়েছে।