advertisement
আপনি দেখছেন

এক দশক আগে, প্রভিডেন্সে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ২৫১ রান করেছিলো বাংলাদেশ। সেই রান আর পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি এতোদিন। অবশেষে মুশফিকুর রহিমের লড়াকু এক সেঞ্চুরিতে ভর করে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ।

mushfiq playing a shot while hitting century against south africa

সিরিজের প্রথম ম্যাচে কিম্বার্লিতে টস জিতে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ করেছে ২৭৮ রান, সাত উইকেটে। যা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংসের নতুন রেকর্ড।

এই কীর্তি গড়ার পথে সর্বোচ্চ রান আসে মুশফিকের ব্যাট থেকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি তুলে নেন সেঞ্চুরি। এর আগে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ রান করেছিলেন সৌম্য সরকার। আজ তাকে ছাড়িয়ে যান মুশফিক।

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েই যেনো ওপেনিংয়ে আট ওভার পাঁচ বলে ৪৩ রান এনে দেন ইমরুল কায়েস ও লিটন দাস। সৌম্য ও তামিম না থাকায় এ দুজনের কাঁধেই পড়ে ইনিংস শুরু করার দায়িত্ব। তাতে খুব একটা খারাপ করেননি তারা।

খারাপ করেননি বটে; তবে আরো ভালো কিছু করার সুযোগ হারিয়েছেন দুজনই। লিটন ২৯ বলে ২১ রান করে আউট হন। চারটি চার মেরেছিলেন তিনি। উইকেটে তাকে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে সাবলিল মনে হচ্ছিলো। কিন্তু ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

টেস্টে যাচ্ছেতাই পারফর্ম করা ইমরুলও ব্যর্থ হন মনে রাখার মতো একটা ইনিংস খেলতে। এক ছয় ও চার চারে তিনি ফেরেন ৩১ রান করে। ওয়ানডাউনে নেমে সাকিব ফেরেন ২৯ রান করে। আউট হওয়ার আগে অবশ্য ৫০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। যার মাধ্যমে ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট ও ৫০০০ রান করার দারুণ কীর্তিতে নাম লেখান সাকিব। তার আগে এই কীর্তি আছে মাত্র চারজনের।

সাকিব আউট হয়ে গেলেও একপ্রান্ত ধরে রেখে রানের চাকাটা সচল রাখেন মুশফিক। টেস্ট অধিনায়কত্ব নিয়ে তুমুল বিতর্ক, সেই বিতর্কে ঘি ঢেলে দিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা এবং ব্যাট হাতেও ব্যর্থতা; এই সব মিলিয়ে মুশফিকের ইদানিংকালের জীবনটা হয়ে উঠেছিলো দুর্বিসহ।

কিন্তু মুশফিক এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করলেন দারুণ দক্ষতায়। একের পর এক দারুণ শট, প্রোটিয়া শর্ট বলের বিপক্ষে অসাধারণ ব্যাটিং করে তিনি তুলে নেন সেঞ্চুরি। একই সঙ্গে কড়া জবাব দেন সব রকম সমালোচনার।

বাংলাদেশের রান হাতে পারতো আরো, যদি মুশফিকের সঙ্গে জুটিটা আরো বড় করতে পারতেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি ২৭ বলে ২৬ রান করে শিকার হন শর্ট বলের। রিয়াদের পর নামা সাব্বিরও সুবিধা করতে পারেননি। যদিও তার ব্যাটে আভাস মিলছিলো বড় কিছুরই। কিন্তু ২১ বলে ১৯ রানের বেশি করতে পারেননি ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

সাব্বিরের নাসিরও ফেরেন মাত্র আট রান করে। এ দুজনের তুলনায় সফল ছিলেন এই ম্যাচ দিয়েই ওয়ানডে খেলতে শুরু করা সাইফ উদ্দিন। তিনি ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে করেন ১০ বলে ১৬ রান। একটি করে চার ও ছয় মারেন তিনি। আর মুশফিক অপরাজিত থাকেন ১১০ রান করে।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এই ইনিংসে সেরা বোলার কাগিসো রাবাদা। তিনি ১০ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে নেন চারটি উইকেট। ডোয়াইন প্রেটোরিয়াস নেন দুটি উইকেট। 

বাংলাদেশ আগে ব্যাটিং করে ২৭৮ বা এর চেয়ে বেশি রান করেছে ২০ বার। এর মধ্যে ১৩ বারই জিতেছে বাংলাদেশ। এই রেকর্ড বলছে যে, আজও বাংলাদেশের জয়ের দিকেই ঝুঁকে থাকছে ম্যাচের পাল্লা!