advertisement
আপনি দেখছেন

এখনই তার দেশে ফেরার কথা ছিলো না। কিন্তু আততায়ী ইনজুরির কারণে ফিরতেই হলো তামিম ইকবালকে। লম্বা সিরিজের বেশিরভাগ অংশ শেষ হয়ে যাওয়ার পর, একটু স্বস্তিতেই থাকার কথা ছিলো তার। কিন্তু স্বস্তি পাবেন কী— উল্টো তাকে কথা বলতে হলো দলের শোচনীয় ব্যর্থতা নিয়ে। দেশে ফেরার পর আজ মিরপুরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আরো ভালো খেলার সামর্থ্য আছে বাংলাদেশ দলের।

tamim talking to media at open air

দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে এবং দুই টি-টোয়েন্টির মধ্যে পাঁচ ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রাপ্তির খাতাটা খাখা শূন্যতায় ভরা। না ব্যাটে না বলে, কোনো বিভাগেই বাংলাদেশ এই সিরিজে মনে রাখার মতো কিছু করতে পারেনি।

একেবারে যে কিছু মনে থাকবে না, তা অবশ্য নয়। তবে যা মনে থাকবে— তা কেবলই বড় থেকে বড় একেকটা পরাজয়। এই রকম ব্যর্থতার সিরিজের বেশির ভাগ অংশে তামিম ইকবাল, বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান থেকেছেন প্রায় দর্শক হয়ে। স্বভাবতই তাই হতাশা ছুঁয়ে যাচ্ছে তাকে।

তামিম বললেন, ‘দল হিসেবে বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমরা যতোটা ভালো খেলার সামর্থ্য রাখি, তা প্রয়োগ করে খেলতে পারিনি। আমাদের আসলে আরো ভালো খেলার ক্ষমতা আছে। এটা সত্য যে, দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে খেলে আমরা অভ্যস্ত নই। কিন্তু এটিকে আমি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চাই না। আমরা যদি দল হিসেবে বা ব্যক্তিগত জায়গা থেকে ভালো কিছু করতে না পারি, তাহলে কোথায় কোন কন্ডিশনে খেলছি, সেটা আসলে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। ব্যর্থতা সব সময়ই ব্যর্থতা।’

এই পরিস্থিতি করণীয় কী— বলতে গিয়ে তামিম বলেন, ‘এই সিরিজটি আমাদের অনেক কিছু শেখালো। এখন কোথায় কী ভুল করেছি, আমাদের তা বের করতে হবে। পরে ভুলগুলো শুধরে নেয়ার উপায় বের করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

টেস্ট ও ওয়ানডেতে চরম রকমের ভরাডুবি হলেও তামিম আশা করছেন শেষ দুটি ম্যাচে সাকিব-মুশফিকরা ভালো কিছু করবেন। তিনি বলেন, ‘এখনো দুইটা ম্যাচ বাকি। আশা করি আমরা সেখানে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারবো। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, যে কয়টা ম্যাচ আমরা খেলেছি, তাতে সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি।’

বাংলাদেশ ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে অনেক দিন ধরে। সেই স্বপ্নের পথে যাত্রার আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটা বড় এক ধাক্কাই দিয়ে গেলো। কারণ এই দলটাই দিনে দিনে গুছিয়ে উঠছিলো। দেশে বিদেশে খেলে অর্জন করছিলো অভিজ্ঞতা। পুরো প্রক্রিয়াকেই ভীষণভাবে নাড়া দিয়ে গেলো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ।

তামিম মনে করেন, এই সিরিজটা বাজে ছিলো খুবই, কিন্তু তাই বলে সিরিজটা ভুলে বসে থাকলে চলবে না। বরং সিরিজটা মনে রেখে, এতে হওয়া ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ হবে ইংল্যান্ডে, সেখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ভালো খেলাটাও কঠিন বাংলাদেশের জন্য। তামিম তাই বললেন, এখনই যদি তারা ভুলগুলো শুধরে নিতে না পারেন, তবে বিশ্বকাপের দারুণ কিছুর স্বপ্ন পূরণ হবে না কোনোভাবেই।