advertisement
আপনি দেখছেন

রাত পোহালেই মাঠে গড়াবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১২তম আসর। চেন্নাইয়ে আগামীকাল রাতে এবারের আইপিএলের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে চেন্নাই সুপার কিংস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ এই টুর্নামেন্টটি এবার বাংলাদেশে কতোটা উন্মাদনা ছড়াবে?

shakib al hasan hydorabad 2019 airport

এই প্রর্শ্নে উত্তর পেতে হলে আইপিএলের কিছু ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে আগাম ধারণা করে বলে দেওয়া যায় যে, এবারের আইপিএল হয়তো গত দুই মৌসুমের মতো বাংলাদেশি ক্রিকেট সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা সৃষ্টি করতে পারবে না।

আইপিএলের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা খেললে সেই ম্যাচগুলো নিয়ে বাংলাদেশে বাড়তি উন্মাদনা দেখা যায়। কিন্তু যে ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা খেলেন না সেগুলো নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায় না। আইপিএলের গত দুই মৌসুমে বাংলাদেশি সমর্থকদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলেন সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান।

যে ম্যাচগুলোতে সাকিব, মোস্তাফিজ একাদশে ছিলেন সেই ম্যাচগুলোকে ঘিরে তুমুল আগ্রহ ছিল। কিন্তু বাকি ম্যাচগুলো তেমন আগ্রহ তৈরি করেনি। এখানেই উন্মাদনা নিয়ে প্রশ্ন।

সামনে বিশ্বকাপ বলে ইনজুরিপ্রবণ মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল খেলার অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাকিব আল হাসান অনুমতি নিয়ে আইপিএল খেলতে ভারতে পৌঁছেছেন। কিন্তু সাকিবের সেরা একাদশে সুযোগ পাওয়া নিয়ে দেখা যাচ্ছে বড় শঙ্কা।

গত বছরের মতো এবারও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে মাঠে নামার কথা সদ্যই বড় ধরনের ইনজুরি কাটিয়ে উঠা সাকিবের। ইনজুরির চেয়ে এই মুহূর্তে সাকিবভক্তদের বড় চিন্তা হায়দরাবাদের একাদশে বিদেশিদের প্রতিযোগিতা। আইপিএলে দলগুলো প্রতি ম্যাচে সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি ক্রিকেটার খেলাতে পারে। সে হিসেবে সাকিব হায়দারাবাদের হয়ে ম্যাচ খেলতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

কারণ আইপিএলের সাবেক চ্যাম্পিয়ন দলটির স্কোয়াডে রীতিমতো তারকার হাট। ডেভিড ওয়ার্নার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরেছেন। এবার দারুণ ফর্মে থাকা ইংলিশ ব্যাটসম্যান জনি বেয়ারস্টো আর মার্টিন গাপটিলকে কিনেছে হায়দরাবাদ। আগে থেকেই আছেন কেন উইলিয়ামসন, রশিদ খান, মোহাম্মদ নবিরা। বিলি স্টানলেকের মতো বিদেশিও আছে হায়দরাবাদের একাদশে।

অনুমিতভাবেই ওয়ার্নার, রশিদকে উপেক্ষা করার সাহস করবে না হায়দরাবাদ। আবার দারুণ ফর্মে থাকা জনি বেয়ারস্টোকেও উপেক্ষা করতে গেলে সাহসের প্রয়োজন হবে। সেক্ষেত্রে সাকিব হতে পারতেন চতুর্থজন। কিন্তু কাল কেন উইলিয়ামসনকে অধিনায়কই বানিয়ে দিল দলটি। অর্থাৎ উইলিয়ামসন একাদশে অনেকটা নিশ্চিতই।

বেয়ারস্টোকে একটু দূরে রাখলেও বলতে হবে হায়দরাবাদের একাদশে ইনজুরি ছাড়া ওয়ার্নার, রশিদ খান, উইলিয়ামসন মোটামুটি নিশ্চিতই। সেক্ষেত্রে চতুর্থ বিদেশি হওয়ার জন্য বেয়ারস্টো, গাপটিল, মোহাম্মদ নবিদের সঙ্গে লড়াই করতে হবে সাকিবকে। বেয়ারস্টো, গাপটিলের সঙ্গে মোহাম্মদ নবিও দারুণ ফর্মে আছেন। সম্প্রতি ইংলিশ কাউন্টিতে বেশ কয়েকটি ভালো ইনিংস খেলেছেন তিনি।

তবে ইনজুরি কাটিয়ে ওঠা সাকিবকে একাদশে নেওয়ার জন্যও বহু যুক্তি খুঁজে পাবে হায়দরাবাদের টিম ম্যানেজমেন্ট। গত বিপিএলে টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন সাকিব। বল হাতে নিয়মিত আগুন ঝড়ানোর পাশাপাশি ব্যাট হাতে বেশ কিছু ভালো ইনিংস খেলেছেন তিনি। গত আইপিএলেও হায়দরাবাদের হয়ে বল ও ব্যাট দুই বিভাগে দারুণ খেলেছিলেন।

দেখা যাক, বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ককে নিয়ে কী চিন্তা করে হায়দরাবাদ ম্যানেজমেন্ট। তবে সাকিব নিয়মিত সেরা একাদশে সুযোগ না পেলে বাংলাদেশে আইপিএল উন্মাদনা ঠিকভাবে ছড়াবে না সেটা আগেই বলে দেওয়া যায়।