advertisement
আপনি দেখছেন

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলতি আসরে শিরোপা জয়ে লক্ষ্যে কোমর বেঁধে নেমেছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। সোমবার রাতে আরো একটি জয় তুলে নিয়েছে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের দল। লিগের চলতি আসরে চার ম্যাচে এটা তৃতীয় জয় তাদের। পাঞ্জাব এবার হারিয়েছে দিল্লিকে ক্যাপিটালসকে; জয়ের ব্যবধান ১৪ রানের।

punjab celebrate a dramatic win

অবশ্য ম্যাচ হারলেও দিনের প্রথম লড়াইয়ে ঠিকই জিতেছিল দিল্লি ক্যাপিটাল। টস জিতে পাঞ্জাবের হাতে ব্যাট তুলে দেন দিল্লির অধিপতি শ্রেয়াস আইয়ার। ব্যাট হাতে শুরুতে সুবিধা করতে পারেনি পাঞ্জাব। ৩৬ রানের মধ্যে হারায় তারা হারায় দুই উইকেট; ৫৮ রানের মধ্যে তৃতীয় উইকেটের পতন।

একে একে সাজঘরে ফিরে গেলেন লোকেশ রাহুল, স্যাম কুরান ও মায়াঙ্ক আগারওয়াল। শুরুর এই বিপর্যয় পাঞ্জাব কাটিয়ে উঠেছে মিডল অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং দৃঢ়তায়। সফরাজ খান, ডেভিড মিলার ও মন্দিপ সিংয়ের দৃঢ়তায় দলীয় সংগ্রহ দেড় শ ছাড়িয়েছে পাঞ্জাব।

২৯ বলে ৬টি চারে ৩৯ রান করেছেন সরফরাজ। ৩০ বলে ৪টি চার ও দুটি ছক্কায় ৪৩ রান এসেছে মিলারের ব্যাট থেকে। তবে ২১ বলে দুটি চার ও এক ছক্কায় ২৯ রানে অজেয় ছিলেন মন্দিপ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত কুড়ি ওভারে নয় উইকেটে ১৬৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ তুলেছে পাঞ্জাব।

পাঞ্জাবের সংগ্রহ আরো বাড়তে পারতো। কিন্তু হঠাৎ করেই ধসে পড়ে তাদের লোয়ার অর্ডার। ১০ রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে ফেলে পাঞ্জাব। শেষের পাঁচ ব্যাটসম্যান মিলে করেছেন পাঁচ রান। দুইজন তো রানের খাতা খুলতে পারেননি। তিন উইকেট তুলে নিয়ে পাঞ্জাবকে চেপে ধরেছিলেন ক্রিস মরিস।

কাগিসো রাবাদা ও সন্দীপ লামিচানে সমান দুটি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন। বোলাররা দিল্লির সংগ্রহটাকে হাতের নাগালে রেখেছিলেন। কিন্তু সহজ জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও ব্যাটসম্যানরা সুন্দর সমাপ্তি টানতে পারেননি। স্কোরবোর্ডে ইনিংসের প্রথম বলে পৃথ্বি শকে হারিয়ে ধাক্কা খায় দিল্লি।

যদিও ধাক্কাটা শিখর ধাওয়ান ও আইয়ার মিলে সামনে নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দুজন মিলে করেন ৬০ রান। জুটি ভাঙে ২২ বলে পাঁচটি চারের সহায়তায় ২৮ রানে দিল্লি অধিনায়ক বিদায় নিলে। সঙ্গীহারা ধাওয়ান একটু পরেই হারিয়েছেন সঙ্গ। সাজঘরে ফেরার আগে ২৫ বলে চারটি চারে ৩০ রান করেছেন তিনি।

ম্যাচটা হাতের মুঠোয়া নিয়ে এসেছিল দিল্লি। ঋষভ প্যান্ট ও কলিন ইনগ্রামের ব্যাটে চড়ে বড় জয় দেখছিল দিল্লি। কিন্তু আচমকা ঝড়ে সব এলোমেলো হয়ে গেছে দিল্লির লোয়ার মিডল ও লোয়ার অর্ডার। তিন উইকেটে ১৪৪ রান থাকা দিল্লি অল আউট হয়ে গেল ১৫২ রানে!

আট রানের ব্যবধানে শেষ সাত উইকেট হারিয়ে জেতা ম্যাচটা হেরে গেছে দিল্লি। শেষের ব্যাটসম্যানদের কাণ্ডজ্ঞানহীন ব্যাটিং ডুবিয়েছে দিল্লিকে। অথচ ভালোই এগোচ্ছিলেন প্যান্ট ও ইনগ্রাম। ২৬ বলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৯ রান করেছেন প্যান্ট। ২৯ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন ইনগ্রাম।

নিশ্চিত হারতে বসা পাঞ্জাবকে জিতিয়েছেন কুরান। কাল চন্ডিগড়ে অবিশ্বাস্য বোলিং করেছেন তিনি। ১৪ বলে ১১ রান খরচায় হ্যাটট্রিকসহ চার উইকেট তুলে নিয়ে দিল্লির ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দিয়েছেন কুরান। অবধারিতভাবেই অবিশ্বাস্য বোলিং নৈপুণ্য তার হাতে তুলে দিয়েছে ম্যাচ সেরা স্বীকৃতি। পাঞ্জাবের জয়ে অবদান আছে অশ্বিন এবং মোহাম্মদ সামিরও। দুজন যৌথভাবে নিয়েছেন চারটি উইকেট।

আজকের খেলা:

রাজস্থান রয়্যালস-রয়‌্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু
রাত ৮.৩০টা 

পাঞ্জাব-দিল্লির পরের ম্যাচ:

কিংস ইলেভেন পাঞ্চাব-চেন্নাই সুপার কিংস
৬ এপ্রিল, রাত ৮.৩০টা 

দিল্লি ক্যাপিটালস-সানরাইজার্স হায়দরাবাদ
৪ এপ্রিল, রাত ৮.৩০টা

sheikh mujib 2020