advertisement
আপনি দেখছেন

ইডেন টেস্টের প্রথম ইনিংসের খেলা চলছিল তখন। ভারতীয় ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জারেকার বলছিলেন, আমার মনে হচ্ছে ইডেনে নয় খেলা হচ্ছে ব্রিসবেনের পেসবান্ধব উইকেটে। ওভাবে বলার যথার্থ কারণও ছিল। ভারতীয় পেসারদের একের পর এক ডেলিভারি আঘাত হানছিল বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের বুক, পাঁজর, হেলমেটে। শুধু ওই সময় নয়, পুরো সিরিজ জুড়েই ভারতীয় পেসের বিপক্ষে ভুগছে বাংলাদেশ।

taskin ahmed rubel hossain 1তাসকিন আহমেদ (বামে) ও রুবেল হোসেন (ডানে)- ছবি ইন্টারনেট

ইডেন টেস্টের প্রথম ইনিংসে বলের আঘাতে হাসপাতাল পর্যন্ত যেতে হয়েছে দুই বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানকে। ভারতীয়দের পেস আগুনে ইডেনে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৬ রানেই গুটিয়ে গেছে সফরকারীরা। ১৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও ধুঁকছে বাংলাদেশ।

ইন্দোর টেস্টেও একই দশা হয়েছে মুমিনুল হকের দলের। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের পতন হওয়া ২০ উইকেটের ১৫টিই তুলে নিয়েছিলেন ভারতের তিন পেসার ইশান্ত শর্মা, মোহাম্মদ শামি ও উমেশ যাদব। উপমহাদেশের উইকেটে ভারতীয় পেসারদের এমন দাপট বড্ডই বিরল। ভারতীয় পেসারদের দাপট দেখে অনেকেরই হয়তো মনে পড়ে যাচ্ছে তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেনদের কথা।

চলতি সিরিজে তিনজন পেসারকে খেলিয়েছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট- আবু জায়েদ রাহি, ইবাদত হোসেন ও আল-আমিন হোসেন। কিছু উইকেট পেয়েছেন ঠিকই কিন্তু শামি, ইশান্ত শর্মাদের তুলনায় একেবারেই সাদামাটা ছিলেন বাংলাদেশি পেসাররা। ইন্দোর টেস্টে ইবাদত হোসেন একেবারেই নির্বিষ দেখা গেছে। উইকেট তুলে নেওয়ার মতো ডেলিভারি তো দিতে পারেনইনি বাউন্সারে যে ভীতি ছড়াবেন সেটাও পারেননি।

সুইংয়ে নাস্তানাবুদ করার পাশাপাশি শরীর লক্ষ্য করে ভীতি ছড়ানোর কাজটি করে গেছেন ভারতীয় পেসাররা। মোহাম্মদ শামিকে বেশি দেখা গেল এই কাজ করতে। বাংলাদেশি পেসাররা এই কাজে পুরোপুরি ব্যর্থ।

মাঝে মধ্যে বাউন্সারে ভীতি ছড়ানোর কাজটা ইনিংসের কোন সময়ের করতে পারেননি ইবাদত হোসেন, আল-আমিন হোসেনরা। রুবেল, তাসকিনদের মনে পড়ছে সেই কারণেই।

উচ্চতার কারণে তাসকিন সহজাত ভাবেই বাউন্স পেয়ে থাকেন। টানা গতিতে বোলিং করে যাওয়ার দুর্দান্ত ক্ষমতাও রয়েছে তার। রুবেল হোসেন তো অনেকদিন ধরেই দেশের দ্রুত গতির বোলার। একাদশে এই দুজন থাকলে হয়তো বাংলাদেশিদের মতো ভুগতে হতো ভারতীয় ব্যাটসম্যানদেরও।

ফর্মেও ছিলেন দুজন। জাতীয় লিগে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তাসকিন। ঢাকা মেট্রোর হয়ে তিন ম্যাচে বোলিং করে ১৭ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন। জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ডে ৫১ রানে ৭ উইকেট নিয়ে হইচই ফেলে দিলেন রুবেল হোসেনও।

তাসকিন, রুবেলরা ইনফর্ম থাকতে কেন ইবাদত হোসেনের মতো পেসার একাদশে সুযোগ পান তার ব্যাখ্যা হয়তো নির্বাচকরাই ভালো দিতে পারবেন!