advertisement
আপনি দেখছেন

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনের নির্ধারিত সময় ছিল দুপুর একটা। বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এলেন আধঘণ্টা দেরিতে। প্রচারমাধ্যমের সামনে তিনি হাজির হলেন বিধ্বস্ত, হতবিহ্বল এক চেহারা নিয়ে।

mashrafe angry 2020 1

কঠিন সব প্রশ্ন যে ধেয়ে আসবে সেটা বোধহয় আগে থেকেই অনুমান করা ছিল তার। প্রায় কুড়ি মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে সিরিজ এবং প্রতিপক্ষ নিয়ে আলাপ হলো যত সামান্য। এ যেন সিরিজ নয়, মাশরাফির অবসর পূর্ব সংবাদ সম্মেলন!

বিশ্বকাপের আগ থেকে শুরু হয়েছে মাশরাফির অবসর নিয়ে জল্পনা। সেটা সম্প্রতি আরো উসকে দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন; ঘোষণা দেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ দিয়েই শেষ হচ্ছে মাশরাফি যুগ।

স্বাভাবিকভাবেই সাংবাদিক বৈঠকে মাশরাফির অবসর প্রসঙ্গটা ‍উঠল শুরুতে। এরপর দুই-একটা প্রশ্ন বাদ দিলে ঘুরিয়ে ফিরে সব প্রশ্নের মোহনা একটাই। কারণ মাশরাফি যেমন ঝেরে কাশছেন না তেমনি বিসিবি তরফ থেকেও ধোঁয়াশা কাটানো হচ্ছে না।

অবসর প্রসঙ্গে প্রশ্নগুলো তাই টাইগার অধিনায়কের কাছে তিক্ত মনে হলো। গণমাধ্যমর ছুঁড়ে দেওয়া একের পর এক বাউন্সারগুলো মাশরাফি সামলেছেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে। হুক করেছেন, পুল করেছেন, ডাউন দা উইকেটে এসে ছক্কাও হাঁকিয়েছেন!

এমন আগ্রাসী মেজাজে কখনোই মাশরাফিকে দেখা যায়নি। তবে এর পূর্বাভাসটা সবশেষ দুটি সংবাদ সম্মেলনে দিয়ে রেখেছেন। আজ সেটার চূড়ান্ত বিস্ফোরণ হলো। অবস্থা এমন একটা পর্যায়ে এসেছে যে সংবাদ সম্মেলন যেন হয়ে উঠল গণমাধ্যম বনাম মাশরাফি!

অবস্থা ঘোলাটে হয়ে ওঠায় দ্রুত বৈঠক গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম। তবু থামল না প্রশ্নবাণ। অবসর নিয়ে শেষ প্রশ্নে যেন চূড়ান্তভাবে চটে গেলেন অধিনায়ক।

আজ সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ক্ষুব্ধ মাশরাফি বলেছেন, ‘একই প্রশ্ন প্রত্যেকবার করার কিছু নেই। আর এত কিছু জানানোর কিছু নেই। ক্রিকেট বোর্ড আপনাদের জানিয়ে দেবে। বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার কী কথা হয়েছে সেটা আপনাদের কেন বলব? এটা বলা জরুরি না।’

মাশরাফিকে এদিন অন্যরকম লাগল আরো একটা কারণে। এদিন কথা বলার সময় বারবার আটকে যাচ্ছিলেন তিনি। কাঁপা কাঁপা সরে কথা বলে গেলেন। তখন খুব শান্ত মনে হচ্ছিল তাকে। সময় যতই গড়িয়েছে ততই চড়াও হচ্ছিলেন তিনি।