advertisement
আপনি পড়ছেন

টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে গতকালের ম্যাচটি জেতার বিকল্প ছিল না কলকাতা নাইট রাইডার্সের। এমন ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেয় লখনউ সুপার জায়ান্টস। মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে এরপর ইতিহাস লিখলেন লখনউয়ের দুই ওপেনার। কেকেআরের বোলারদের ইচ্ছেমতো পিটিয়ে কোনো উইকেট না হারিয়ে তুললেন ২১০ রান। আইপিএলের ইতিহাসে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২০ ওভারে দুই শতাধিক রান করার এটাই প্রথম নজির।

de cock battingঅ্যাকশনে ডি কক

কুইন্টন ডি কক যেন পুরোপুরি অঙ্ক কষে ব্যাটিং করছিলেন। যখন ইনিংস শেষে তিনি মাঠ থেকে বের হচ্ছিলেন তখন তার নামের পাশে ১৪০ রান। ৭০ বলে এ রান নেওয়ায় নামের পাশে ২০০ স্ট্রাইক রেট জ্বলজ্বল করছিল। চার-ছয়ের হিসাবটাও ছিল বেশ মজার। ১০ চার ও ১০ ছক্কায় এই রান তুলেছেন তিনি!

গতকালের ম্যাচে অবশ্য ভাগ্য তার সহায় ছিল। ডি কক যখন ১২ রানে ব্যাটিং করছেন তখন তার ব্যাটের টপ এজে লেগে বল থার্ডম্যান অঞ্চলে দাঁড়ানো অভিজিত তোমরের হাতে গিয়েছিল। কিন্তু ক্যাচটি তিনি ধরে রাখতে পারেনি। তারপর আর ডি কককে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

de cock and kl rahulইতিহাস গড়ে প্যাভিলিয়নে ফিরছেন ডি কক ও লোকেশ রাহুল

সতীর্থ অধিনায়ক লোকেশ রাহুলও খারাপ খেলেননি। যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ৫১ বলে করেছেন ৬৮। তার ইনিংসে চারটি ছয়ের পাশাপাশি ছিল তিনটি বাউন্ডারি। দুজনে মিলে বিনা উইকেটে ২১০ রান নিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। কুইন্টন ডি কক ও কে এল রাহুলের ব্যাটিং তাণ্ডেবে স্রেফ উড়ে গেছে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলিং আক্রমণ।

ডি কক তার অসাধারণ ইনিংসের সৌজন্যে আইপিএলের এক ইনিংসে সর্বাধিক রানসংগ্রহকারী ব্যাটারদের তালিকায় তিন নম্বরে চলে আসেন। টপকে যান স্বদেশী এবি ডিভিলিয়ার্সকে। এ তালিকায় শীর্ষে আছেন ইউনিভার্সাল বস ক্রিস গেইল। ২০১৩ সালে আরসিবির হয়ে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিরুদ্ধে করেছিলেন অপরাজিত ১৭৫ রান।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ২০০৮ সালে কেকেআরের হয়ে আরসিবির বিরুদ্ধে খেলেছিলেন হার না মানা ১৫৮ রানের ইনিংস। এতদিন এ তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিলেন এবি ডিভিলিয়ার্স। ২০১৫ সালে তিনি আরসিবির হয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে করেছিলেন ১৩৩ রান। গতকালের ডি কক ঝড়ে এবি ডিভিলিয়ার্স নেমে গেছেন চতুর্থ নম্বরে।

জবাব দিতে নেমে আরেকটু হলেই ইতিহাস গড়ে ফেলছিল কেকেআর। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। তাদের সংগ্রাম থামে ২০৮ রানে গিয়ে। ফলে মাত্র দুই রানে তারা হেরে যায় লখনউর কাছে।