advertisement
আপনি পড়ছেন

বার্সেলোনা আর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের লড়াইটা যেভাবে শেষ হলো এই গল্প নিয়ে হলিউডে সফল একটা থ্রিলার মুভিও তৈরি হতে পারে! গতকাল রাতে কোপা দেল রের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগের লড়াইয়ে রোমাঞ্চের এতোটুকুও বাদ থাকল কই! ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচটাতে রেফারি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন ১১ বার। লাল কার্ড তিন বার। যার দুটিই দেখেছেন বার্সেলোনার ফুটবলরারা। তারপরও অবশ্য অ্যাটলেটিকোকে হতাশ করে ফাইনালে চলে গেছে বার্সেলোনা।

messi vs atletico

কারণ প্রথম লেগে অ্যাটলেটিকোর ঘরের মাঠে গিয়ে ২-১ ব্যবধানে জিতে এসেছিল বার্সা। ফলে দু্ই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানের এগিয়ে থেকে টানা চতুর্থ বারের মতো কোপা দেল রের ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন মেসি-সুয়ারেজরা।

মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অক্রমনভাগের অন্যতম ভরসা নেইমারকে পায়নি বার্সেলোনা। হলুদ কার্ডের নিষেধাজ্ঞার পড়ে খেলতে পারেননি ব্রাজিল তারকা। এদিকে প্রথম লেগে এক গোলে পিছিয়ে ছিল অ্যাটলেটিকো। এই দুই মিলিয়েই হয়তো গতকাল রাতে ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচের শুরুতে বার্সেলোনাকে কাঁপিয়ে দিতে চাইলেন অ্যাটলেটিকোর ফুটবলররা।

শুরুর দিকে বার্সেলোনার মাঠে বেশ দাপটে খেলেছেন দিয়েগো সিমিওনের খেলোয়াড়রা। বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। ৪৩ মিনিটে গিয়ে উল্টা গোল খেয়ে বসে অ্যাটলেটিকো। তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত এক শট নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। অ্যাটলেটিকো গোলরক্ষক সেটা আটকে দিলেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি।

বল গিয়ে পরে সুয়ারেজের সামনে। এরপর বার্সেলোনাকে ১-০ গোলে এগিয়ে নিতে ভুল করেননি সুয়ারেজ। ম্যাচটা বদলে গেল যেন এই গোলের পরই। গোলটা বুঝি অহমে লাগল অ্যাটলেটিকোর। ঘরের মাঠে যেভাবে খেলেছেন বার্সার মাঠে এসেও শরীর নির্ভর ফুটবল খেলতে শুরু করে দেয় অ্যাটলেটিকো।

মেসি-সুয়ারেজদের পায়ে বল গেলেই ফেলে দেওয়ার প্রতিযোগীতা করে গেছেন অ্যাটলেটিকো ফুটলাররা। ঘরের মাঠে এসে এমন আচরন মেনে নিতে হয়তো কষ্ট হচ্ছিল বার্সেলোনার। দেখাদেখি তারাও জবাব দেওয়ার চেষ্টা করলেন হয়তো। তাতেই হলুদ আর লাল কার্ডের ছড়াছড়ি।

ম্যাচের ১১ হলুদ কার্ডের মধ্যে বার্সেলোনার ফুটবলাররটাই দেখলেন ৭টি। তার মধ্যে সার্জিও রোবের্তো আর লুইস সুয়ারেজ দুই হলুদ কার্ডে লাল কার্ডই দেখলেন। সুয়ারেজ লাল কার্ড দেখেছেন ম্যাচের ৯০ মিনিটে। ফলে এই ম্যাচে ততটা প্রভাব না পড়লেও ফাইনালে খেলতে পারবেন না।

তবে সার্জিও রোবের্তোর লাল কার্ডটা বেশ ভাবাচ্ছিল বার্সা সমর্থকদের। কারণ ম্যাচের ৫৭ মিনিটে লাল কার্ড দেখেছিলেন তরুণ মিডফিল্ডার। এরপর এতো সময় দশ জনের দল নিয়ে খেলতে হলে বড় বিপদই হতে পাড়ত। তবে ৬৯ মিনিটে গিয়ে অ্যাটলেটিকোর কারাসকো আবার দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখে চিন্তা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছিলেন। দুই দলই তখন দশজনের দল।

অ্যাটলেটিকোর একমাত্র গোলটি ম্যাচের ৮৩ মিনিটে। তবে এই গোল পেতেও কম নাটকের জন্ম হলো! জেরার্ডোর পিকের ভুলে ৭৯ মিনিটে পেনাল্টিই পেয়ে যায় অ্যাটলেটিকো। কিন্তু শট বারের উপর দিয়ে মেরে দিলেন পেনাল্টি আদায় করা গামেইরো। চার মিনিট পর ওই গামেইরোই অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেছেন। প্রথম লেগে বার্সার ২-১ গোলে জেতার ম্যাচেও কিন্তু কম নাটক হয়নি।