advertisement
আপনি পড়ছেন

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের বাধা পেরুনো যখন শঙ্কার মুখে একাই কি দারুণ ভাবেই না আর্জেন্টিনাকে টানছেন লিওনেল মেসি। আগের ম্যাচে এক গোল করে দুটি গোল করিয়ে অনেকটা একাই দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছিলেন। আজও একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি। ঘরের মাঠে চিলির বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলতে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু চিলির বিপক্ষে বেশি প্রভাব দেখাতে পারেননি আর্জেন্টাইনরা। ব্যতিক্রম কেবল মেসি। পুরো ম্যাচেই নিজে খেললেন, অন্যদের খেলালেন। গোল করলেন। মেসির একমাত্র গোলেই চিলির বিপক্ষে ১-০ গোলের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা।

messi vs chili

এই জয়ে অনেকদিন পর হয়তো স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন আর্জেন্টাইনরা। পয়েন্ট টেবিলের অবস্থানটা যে বেশ শক্তই হলো। পাঁচ নম্বরে থাকা আর্জেন্টিনা আজকের জয়ের পর দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এসেছে। আগামী রাশিয়া বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পেতে হলে সেরা চারে থাকতে হবে। অবস্থানটা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও নিতে হচ্ছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। কারণ নিচে থাকা দলগুলো পয়েন্টে খুব বেশি পিছিয়ে নেই।

ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা কোচ এদগার্দো বাউজা বলেছিলেন, জয় চাই, কিভাবে এলো সেটা বিষয় নয়। কোচের এই সমীকরণ মেনেই হয়তো খেলতে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু এই সমীকরণ কাজ দেয়নি। সুন্দর ফুটবলের অস্তিত্ব তো ছিলই না, মাঠে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না আর্জেন্টিনার তারকাদের।

যাতে শুরুতেই হয়তো অনেকের চোখে গত দুই কোপা আমেরিকার ফাইনালের ছবি ভাসছিল। তখনই মেসি ঝলক। ম্যাচের ১৬ মিনিটে ডি মারিয়াকে ডি-বক্সের ভেতর ফেলে দেন চিলি ডিফেন্ডার। পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১-০ তে এগিয়ে নিতে ভুল করেননি মেসি।

প্রথমে অবশ্য এগিয়ে যেতে পারত চিলিই। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই আর্জেন্টিনার জালে বল জরায় সফরকারী দলটি। কিন্তু অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। এক গোল হজম করার পরও সুযোগ তৈরী করেছিল চিলিয়ানরা। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের ৭৮ মিনিটে ভাগ্য সাথে ছিল না বলেই তো গোল পেলো না চিলি। ডি-বক্সের একটু বাইরে থেকে সানচেজের নেওয়া ফ্রি-কিক বারে লেগে প্রতিহত হল। এর কিছুক্ষণ পর আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক রোমেরোর দৃঢ়তায় গোল বঞ্চিত হয়েছে চিলি। আর্জেন্টিনাও অবশ্য একবার বড় সুযোগ পেয়েছিল।

৪৪ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক থেকে জটলায় বল পেয়েছিলেন ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডি। আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার তখন গোলবার থেকে মাত্র দুই গজ দূরে। তারপরও বল জালে জড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত মেসির ওই পেনাল্টি গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে। ১-০ গোলের ব্যবধানে জিতে মাঠ ছেড়েছে আর্জেন্টিনা।