advertisement
আপনি পড়ছেন

ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে জমজমাট রোমাঞ্চ নিয়ে রোববার ভোরে হাজির হয়েছিলো এল ক্লাসিকো। তাতে ৩-২ গোলে দারুণ জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। এবার নিয়ে সর্বশেষ ছয় এল ক্লাসিকোর চারটিতেই রিয়াল মাদ্রিদকে উড়িয়ে দিলো কাতালানরা।

barcelona beat real madrid on el clasico

ম্যাচটি হয়েছে ব্যস্ত মৌসুমের প্রাক প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপে। প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট হলেও মায়ামির সান লাইফ স্টেডিয়ামে উত্তেজনার কমতি ছিলো না। বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদ পৃথিবীর যে প্রান্তেই মুখোমুখি হোক না কেনো, উত্তাপ তাতে কখনো কম থাকে না। আরো একবার প্রমাণ হলো এটিই।

ম্যাচের মাত্র সাত মিনিটেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদের জালে প্রথম আঘাতটা হানেন লিওনেল মেসি। দর্শকরা তখনো হয়তো যার যার আসনে ঠিক বসেনওনি, এর মধ্যেই, ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটে গোল করেন বার্সার প্রাণভোমরা।

মেসির বাঁ পায়ের জোরালো শট গিয়ে লাগে রাফায়েল ভারানের গায়ে। এরপর দিক পাল্টে চলে যায় সোজা জালে। রিয়ালের গোলরক্ষক কেইল নাভাসের বলটাকে চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিলো না। স্পেনের বাইরে হওয়া এই এল ক্লাসিকোর উত্তেজনা চরমে উঠে যায় মেসির গোলের পরই।

প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই রিয়ালকে দ্বিতীয় গোল হজম করতে হয় ম্যাচের মাত্র সাত মিনিটে। এবারের গোলের উৎসমুখ নেইমার। বার্সায় থাকবেন নাকি পিএসজিতে যাবেন, এমন দ্বিধায় থাকা নেইমারকে মাঠে এক মুহূর্তের জন্যও চিন্তিত মনে হয়নি। বরং মেসি-সুয়ারেজের সঙ্গে বার্সার আক্রমণভাবে তাকেও দেখা গেছে সপ্রতিভ।

messi and neymar celebrating gaol against real madrid

বার্সার গোলমুখের কাছাকাছি গিয়ে নেইমার পাস দেন সুয়ারেজকে। কিন্তু সুয়ারেজ বলটা ছেড়ে দেন ইচ্ছে করেই। এতে রাকিতিচের সামনে সৃষ্টি হয় সহজ গোলের সুযোগ। সেই সুযোগ আর মিস করেননি জরুরি মুহূর্তে বারবার বার্সার হয়ে জ্বলে উঠা রাকিতিচ। দারুণ এক গোলো ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।

প্রথমার্ধে আরো দুই গোল দেখেন মিয়ামি সান লাইফের দর্শকরা। তবে এবারের দুই গোল কেবলই রিয়ালের। অর্থাৎ দ্রুত হজম করা দুই গোল আবার দারুণভাবে ফিরিয়েও দেয় রিয়াল। ১৪ মিনিটে তাদের হয়ে প্রথম গোলটি করেন মাতিও কোভাসিচ। ডি বক্সের প্রায় শেষ প্রান্ত থেকে গোল করেন তিনি।

এরপর ১৯ ও ২৯ মিনিটে গিয়ে দুটি গোল মিসের গল্প। ১৯ মিনিটে দারুণ গতিতে বার্সার ডি বক্সে ঢুকে পড়েন করিম বেনজেমা। বার্সার দর্শকদের তখন প্রায় দম বন্ধ হওয়ার দশা। বাঁ পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যটা প্রায় ভেদও করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বার ঘেসে বল চলে যায় বাইরে। দারুণ এক সুযোগ মিস করে রিয়াল।

১০ মিনিট পর, ম্যাচের ২৯ মিনিটে সুয়ারেস দারুণ এক সুযোগ তৈরি করেন নেইমারের জন্য। কিন্তু ব্রাজিলিয়ান তারকা লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন। তার শট রিয়ালের গোলবারের ডান পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৩৬ মিনিটে গিয়ে দ্বিতীয় সাফল্য পায় রিয়াল। মধ্যমাঠ থেকে বার্সার কাছ থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন প্রথম গোলদাতা কোভাসিচ। তিনি বল বাড়িয়ে দেন সামনে এগোতে থাকা মার্কো আসেনসিওকে। গোল করতে মোটেও ভুল করেননি তিনি।

২-২ গোলের সমতা নিয়ে শেষ হয় দুর্দান্ত প্রথমবার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধেও চলতে থাকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের গতিময় ফুটবল। ম্যাচের ভাগ্যও দুলতে থাকে পেণ্ডুলামের মতো।

ম্যাচের ৫০ মিনিটে গিয়ে জেরার্ড পিকে বার্সাকে এগিয়ে দেন আরো একবার। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর বার্সা আর গোল করতে যায়নি। রিয়ালকেও দেয়নি কোনো সুযোগ। শেষ পর্যন্ত এল ক্লাসিকো রোমাঞ্চের আপাত অবসান ঘটে বার্সেলোনার দারুণ এক জয়ে।