advertisement
আপনি পড়ছেন

এক দল টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সেরা। অন্য দল এবারের আসরে এতটাই ফেভারিট যে, তারা চ্যাম্পিয়ন না হলে সেটা হবে বড় একটা অঘটন! এমন বাস্তবতাকে সামনে রেখে নক আউট পর্বের শুরুতেই মুখোমুখি হতে হচ্ছে ক্লাব ফুটবলের অভিজাত দল দুটোকে।

real madrid vs psg champions league

ফুটবলপ্রেমীদের বুঝতে বেগ পাওয়ার কথা নয়, কাদের কথা বলা হচ্ছে। কথা হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) নিয়ে। যাদের আগুন লড়াইয়ের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে শেষ ষোলোর ড্রয়ের পর থেকেই। যুদ্ধের ময়দান সান্তিয়াগো বার্নাব্যুও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে অনেক আগে থেকেই। প্রায় দু ঘণ্টার জন্য এখানকার গ্যালারির একেকটা চেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে অন্তত ২৫ লাখ টাকা! রিয়াল-পিএসজি ম্যাচের রোমাঞ্চ কোন পর্যায়ে চলে গেছে সেটা বুঝিয়ে দিচ্ছে এই তথ্যটাই।

লড়াইটা মহা মর্যাদার। নিশ্চিতভাবে দ্বৈরথটা ঠাঁই করে নেবে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের পাতায়। এই মহারণের জন্য প্রস্তুতিপর্বটাও শুরু হয়েছে অনেক দিন ধরে। বল মাঠে গড়ানোর আগেই এর উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। বছরের শ্রেষ্ঠ লড়াই তো বটেই, অনেকেই এটার আবার কেতাবী নাম দিয়ে বসেছেন ‘‘বিগেস্ট ব্লকবাস্টার’’।

ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে ১২বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রূপালি ট্রফি জয়ে তাদের ধারে কাছেও কেউ নেই। সেই তুলনায় পিএসজি তো একেবারেই নতুন দল এই প্রতিযোগিতায়। তবু এই ম্যাচের রোমাঞ্চ বৃহস্পতির তুঙ্গে। এর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে এই সময়ের অন্যতম সেরা দুই তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমারের মুখোমুখি হওয়াটা।

ধারণা করা হচ্ছে এ যুগলের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য প্রদর্শনের লড়াইটিই গড়ে দিতে পারে শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচের ভাগ্য। পাঁচবারের বর্ষসেরা রোনালদো নাকি বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় নেইমারের জয় হবে এ লড়াইয়ে? উত্তরের অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে বসে আছে পুরো ফুটবল দুনিয়া। আজ (বুধবার) বাংলাদেশ সময়ে পৌনে দুটায় মঞ্চায়ন হবে ধ্রুপদী দ্বৈরথটা। একই সময় মুখোমুখি হবে পোর্তো ও লিভারপুল। কিন্তু বার্নাব্যুর মহাযুদ্ধ উত্তাপ আড়াল করে দিচ্ছে এই ম্যাচের রোমাঞ্চকে।

ইতিহাস, পরিসংখ্যান কোনো কিছুতেই রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তুলনা চলে না পিএসজির। বিস্তর তফাৎ তাদের মধ্যে। তবে এই মৌসুমের পারফরম্যান্সে পিএসজির ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়ে রিয়াল। লা লিগায় শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকে পড়েছে আগেই, কোপা দেল রেতেও বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে জিনেজিন জিদানের দলের। চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপাটাই এখন শেষ ভরসা তাদের। এই ম্যাচের জন্য সোসিয়েদাদকে ৫-০ গোলে চূর্ণ করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে রেখেছে মাদ্রিদ জায়ান্টরা।

তবে কদিন আগের ফলটা নয়, মৌসুমজুড়ে ধুঁকতে থাকা রিয়ালের আত্মবিশ্বাসের কারণ ভিন্ন। এই ভুবনে যে সেরা তারাই। ম্যাচের আগে প্রাণভোমরা রোনালদো তো বলেই দিয়েছেন, ‘পিএসজিকে আমরা সম্মান করি। দারুণ একটা দল নিয়ে এখানে আসছে তারা। কিন্তু আমরা ঐক্যবদ্ধ। অভিজ্ঞতার বিচারে আমরাই শক্তিশালী দল।’

ইতিহাস ঘাঁটলে রোনালদো অ্যান্ড কোং অনুপ্রেরণা পাবে এটা ঠিক। কিন্তু ময়দানি লড়াইয়ে সেদিকে তাকানোর সুযোগ কই? পিএসজি মধ্যমাঠের সারথি এড্রিয়েন রাবিয়েট ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে যথার্থই বললেন, ‘মানছি অভিজ্ঞতায় ওরা (রিয়ার মাদ্রিদ) আমাদের চেয়ে শক্তিশালী। কিন্তু মানসিকভাবে ওদের চেয়ে আমরা অনেক এগিয়ে। যে কোনো পরিস্থিতিতে ম্যাচের চেহারা বদলে দেওয়ার সামর্থ্য আছে আমাদের। পিএসজি আগের চেয়ে এবার অনেক পরিণত।’

রাবিয়টের কথাগুলো অবশ্য ফাঁকা বুলি নয়। এই মৌসুমে প্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে পিএসজি। মাত্র তিনটি ম্যাচে হেরেছে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়নরা। তাও আবার একটিতে ছিলেন না প্রাণভোমরা নেইমার। পক্ষান্তরে, চলমান মৌসুমে রিয়াল হেরেছে যেখানে সেখানে। হারের সংখ্যাটা বোধহয় মনে নেই সমর্থকদেরও! ইউরোপিয়ান কয়েকটি গণমাধ্যমে গুঞ্জন আছে হোঁচট খেতে খেতে ক্লান্ত রিয়াল কোচ জিদানের ভবিষ্যৎও দাঁড়িয়ে আছে দুই লেগের ম্যাচের ফলের ওপর।

মাদ্রিদে আজ লড়াইটা হবে মূলত দুই দলের আক্রমণভাগের সঙ্গে। পিএসজিতে যেমন আছেন এমসিএন (এমবাপ্পে-কাভানি-নেইমার), রিয়ালের তেমনি বিবিসি (বেল-বেনজেমা-ক্রিশ্চিয়ানো)। দুই দলের ত্রিফলার লড়াইটা যে সেয়ানে-সেয়ানে হবে সেটা বলাই বাহুল্য। তবে পিএসজির ত্রিফলার কাছে অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে রিয়ালের রক্ষণভাগকে। নিষেধাজ্ঞার কারণে এদিন যে মাঠে নামা হচ্ছে না রাইট ব্যাক ড্যানি কারভাহালের! অবশ্য পিএসজির উরুগুয়েন স্ট্রাইকারের চোট নিয়ে ফিসফাঁস থাকলেও এডিনসন কাভানি নিজেকে ফিট বলে ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।

সেরা একাদশ নির্বাচনে রিয়ালের অস্বস্তি থাকতে পারে। কিন্তু ঘরের মাঠে প্রথম লেগের ম্যাচ বলে চাইলে অনুপ্রেরণা খুঁজে নিতে পারে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ের সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান কিন্তু একই সুতোয় গেঁথে আছে। দুই দলের শেষ ৬ বারের সাক্ষাতে দুটি করে জয় পেয়েছে রিয়াল-পিএসজি। দুটো ম্যাচ থেকে গেছে অমীমাংসিত। আজ ‘ভ্যালেন্টাইন্স নাইটে’ এগিয়ে যাওয়ার পালা তাদের।