advertisement
আপনি পড়ছেন

৭-১ গোলের দুঃস্বপ্নের ঘোর নিয়ে বার্লিনে এসেছিল ব্রাজিল। সেই দুঃস্মৃতির ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দিল সেলেকাওরা। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ফেলল স্বস্তির নিঃশ্বাস। মঙ্গলবার জার্মানিকে তাদেরই মাটিতে ১-০ গোলে হারিয়ে কিছুটা হলেও প্রতিশোধ নিল ব্রাজিল।

brazil celebrate jesus goal against germany

অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতোই। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানে পিষ্ট হওয়া এবং প্রদর্শনী ম্যাচের ন্যূনতম ব্যবধানে জেতা দুটোর সঙ্গে কোনোভাবেই তুলনা চলে না। তবু চার বছর আগের ধাক্কা সামলে প্রথমবারের দেখায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারানোর মহাত্ম্যটা একটু আলাদা-ই।

কারণ ম্যাচটা যে ব্রাজিল খেলেছে প্রাণভোমরা নেইমারকে ছাড়াই! ঘরের মাঠ বেলো হরিজন্তের দুঃস্বপ্নের সেই ম্যাচটাতেও ছিলেন না দলের সেরা অস্ত্র। কাকতালীয়ভাবে জার্মানদের সঙ্গে চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের সাক্ষাত, এদিনও ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকলেন নেইমার।

গ্যাব্রুয়েল জেসুস, উইলিয়ান, পাওলিনহোরা এদিন বুঝতেই দিলেন না প্রাণভোমরার অনুপস্থিতিটা। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামের স্বাগতিক দর্শকদের চাপ উপেক্ষা করে টিটের দুর্বার ব্রাজিল জিতল প্রত্যাশিতভাবেই। এরই সঙ্গে জার্মানির টানা ২২ ম্যাচ অজেয় থাকার তকমাটা তুলে ফেলল ল্যাতিন আমেরিকান পরাশক্তিরা। সবশেষ ২০১৬ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ইউরোর সেমিফাইনালে হেরেছিল জার্মানরা।

প্রতিশোধের নেশায় মাতোয়ারা ব্রাজিল এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই চেপে ধরে জার্মানির টুটি। টিটের ছাত্ররা আক্রমণের পসরা সাজান জার্মান রক্ষণদুর্গে। যদিও ম্যাচের প্রথম ও একমাত্র গোলের জন্য ৩৭ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে ব্রাজিলকে।

অবশেষে গোলমুখ খোলেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। দুর্দান্ত হেডে জার্মানির জাল কাঁপান ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার। ঠিক দুই মিনিট আগে সহজ যে সুযোগটা জেসুস হাতছাড়া করেছেন সেটারই যেন শাপমোচন করলেন ব্রাজিলকে এগিয়ে দিয়ে।

জেসুস বৃথা যেতে দিলেন না উইলিয়ানের দারুণ ক্রসটাকে। ব্রাজিল হয়তো আরো আগেই লিড নিতে পারতো। কিন্তু কুতিনো, পাওলিনহোরা বেশ কয়েকটা গোলের সম্ভাবনা জাগিয়েও বলের কাঙ্ক্ষিত ঠিকানা খুঁজে নিতে পারেননি।

জোয়াকিম লোর দলও জেসুসের গোলটার আর শোধ দিতে পারেনি। আসলে জার্মানদের আক্রমণগুলোকে দানা বাঁধতে দেয়নি থিয়াগো সিলভার নেতৃত্বাধীন ব্রাজিলের জমাটবাঁধা রক্ষণ। পুরো ম্যাচে ৫৮ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে জার্মানি সেলেকাওদের গোলমুখে শট নিতে পারল মোটে একবার!

জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর কার্লোস দুঙ্গার হাত ঘুরে ব্রাজিল দলের দায়িত্ব এখন টিটের হাতে। স্বদেশি এই কোচের ছোঁয়াতেই বদলে গেছে ব্রাজিল। ধীরে ধীরে সেলেকাওদের টিটে ফিরিয়েছেন চেনা ছন্দে। তৈরি করেছেন জেসুসের মতো বিশ্বমানের ফুটবলারকে। তার অধীনে ব্রাজিলের হয়ে সিটির এই তারকাই সর্বোচ্চ নয়টি গোল গোল করেছেন।

জেসুস না পারলেও ব্রাজিল দলে এখন আর গোল করার মতো খেলোয়াড়ের অভাব নেই। তিন দিন আগে স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষেও তো সেটা বুঝিয়ে দিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বসেরারা। সেদিন রুশদুর্গ ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল সেলেকাওরা।

পরপর দুই জয়ে আসন্ন বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের প্রস্তুতিটা দারুণভাবেই সেরে নিল টিটের দল। সবমিলিয়ে টানা নয় ম্যাচ অপরাজিত থেকে ব্রাজিল বুঝিয়ে দিল কেন তারা আসন্ন বিশ্বকাপের হট ফেভারিট দল।