advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 23 মিনিট আগে

দারুণ ছন্দে ছিলেন লিওনেল মেসি ও করিম বেনজেমা। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের সেরা অস্ত্র এই দুজনই। কিন্তু মহারণে গোলের দেখা পেলেন না একজনও। গোলমুখ খুলতে পারেননি অন্যরাও। পরিণাম- দীর্ঘ ১৭ বছরের মধ্যে প্রথমবার ফল উপহার দিতে পারল না স্পেনের অন্যতম সেরা দুই ক্লাব। নিস্ফলা থেকে গেল লা লিগার চলতি মৌসুমের প্রথম ও বছরের শেষ এল ক্লাসিকো।

messi and kroos

অথচ গোলের অসংখ্য সুযোগ পেয়েছিলেন দুই দলের ফুটবলাররা। কিন্তু গোলমুখের সামনে গিয়ে বারংবার খেই হারালেন বেনজেমা, মেসি, সুয়ারেজ, বেলরা। তারকাদের ভিড়ে আলো ছড়ালেন রিয়ালের তরুণ মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে। দূরপাল্লার শটে দুবার বার্সেলোনা সমর্থকদের বুক কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

দুবারই তার শট ঠেকিয়ে দেন বার্সা গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন। এদিন গোলপোস্টের নিচে রীতিমতো অতিমানব হয়ে উঠলেন জার্মান শেষ প্রহরী। তা না হলে গোল পেতে পারতো রিয়াল মাদ্রিদ। জিনেদিন জিদানের দল অবশ্য জালের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছিল। কিন্তু ৭২ মিনিটে গ্যারেথ বেল যে গোলটা করেছেন সেটা বাতিল হয়ে গেছে অফসাইডের ফাঁদে পড়ে।

ফরওয়ার্ডদের ব্যর্থতায় স্পেনের সবচেয়ে মর্যাদার লড়াইটা আলোর মুখ দেখেনি। মেসি-বেনজেমাদের নিষ্ক্রিয় রেখে দাপুটে ফুটবল খেলেছেন রামোস ও পিকে। উত্তেজনার রেণু ছড়ানো ম্যাচের পার্শ্ব নায়ক এই দুজন। ক্যাসেমিরোর হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন পিকে। রামোস গোলমুখ থেকে প্রতিহত করেন মেসির বুলেট গতির শট। তাতে ২০০২ সালের পর প্রথমবার বন্ধ থাকল এল ক্লাসিকোর গোলমুখ।

গোলশূন্য এই ড্রয়ে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে টানা সাত ম্যাচ অজেয় থাকল বার্সেলোনা। পেপ গার্দিওলার অধীনে ধারাবাহিক সর্বোচ্চ সাতটি এল ক্লাসিকোতে হারেনি কাতালান ক্লাবটি। কাল গার্দিওলার পাশে নাম লেখালেন এরনেস্তো ভারভার্দে। এ জন্য স্প্যানিশ কোচ ধন্যবাদ দিতে পারেন টের স্টেগেনকে। রিয়ালের মুহুর্মুহু আক্রমণের বেশ কয়েকটি নিস্ফলা করে দিয়েছেন জার্মান এই গোলরক্ষক!

messi and co 1

ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনা তাদের স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছে। বল দখলের লড়াইয়ে যথারীতি আধিপত্য ছিল কাতালানদের। বাকি সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল রিয়াল। আক্রমণ, গোলে শট, কর্নার তথা সবমিলিয়ে দুর্দান্ত একটা ম্যাচই খেলেছে জিদানের দল। আফসোস তাদের, শুধুই ফলটাই নিজেদের অনুকূলে নিতে পারেনি মাদ্রিদ জায়ান্টরা।

৪৮ শতাংশ বল দখলে রেখে বার্সেলোনার বিপদসীমায় ১৭টি আক্রমণ শানিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। বিপরীতে মেসিদের আক্রমণ নয়টি। তন্মধ্যে গোলমুখে শট দুটি। রিয়ালের বেলায় সংখ্যাটা দ্বিগুণ। বার্সার কর্ণার যেখানে দুটি, সেখানে রিয়ালের ছ’টি। ম্যাচজুড়ে অতিথি রিয়াল মাদ্রিদের নিয়ন্ত্রণ কেমন ছিল তা বলে দিচ্ছে এসব তথ্যই।

একজন স্কোরারের অভাবটা এল ক্লাসিকোতে ভালোভাবেই টের পেয়েছে দুই দল। রিয়াল অবশ্য শরীরী ফুটবল খেলেও কাঙ্খিত ঠিকানায় বল পাঠাতে পারেনি। এদিন সর্বমোট ১৭টি ফাউল করেছে অতিথিরা। বিপরীতে সুন্দর ও গোছানো ফুটবল খেলা বার্সার ফাউল মোটে পাঁচটি। আগ্রাসী ফুটবল খেলে হলুদ কার্ড দেখেছেন রামোসসহ রিয়ালের কয়েকজনই। বেল তো পরের ম্যাচে নিষিদ্ধও হলেন।

gareth bale after netted 1

শেষ দিকে কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে রিয়ালের আক্রমণ বিভাগ। রিয়াল গোলরক্ষক থিবাউট কোর্তোয়ার আসল পরীক্ষাটা হলো তখনই। আসলে শেষ দিকে রিয়ালই নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছিল এক পয়েন্ট পাওয়ার আশায়। সুযোগ বুঝে পাল্টা আক্রমণও করেছে তারা। অবশ্য ম্যাচজুড়ে রিয়ালের করা প্রতি আক্রমণগুলো ছিল দেখার মতো। তাদের সব প্রচেষ্টা মাটি করে দিয়েছেন পিকে-টের স্টেগেনরা।

শীর্ষ দুই দলের পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় লিগ টেবিলেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। ১৭ ম্যাচে দুই দলের অর্জন সমান ৩৬ পয়েন্ট। গোলগড়ে এগিয়ে যথারীতি শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। দুইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। ৩১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে সেভিয়া। এক পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা গেটাফে আছে চারে। ২৯ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে থাকল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ড্রয়ের তৃপ্তি ফুটে উঠেছে দুই দলের কণ্ঠে। দুর্দান্ত রিয়ালকে আটকাতে পেরে বার্সা যেমন খুশি হয়েছে তেমনি ন্যু ক্যাম্পে গর্জন দিয়ে এক পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফিরতে পারায় সন্তুষ্ট হয়েছে রিয়াল।

sheikh mujib 2020