advertisement
আপনি দেখছেন

ইকার ক্যাসিয়াসের বিদায়ের পর থেকেই রিয়াল মাদ্রিদের নেতৃত্বের জোয়াল সার্জিও রামোসের কাঁধে। রিয়াল এবং রামোস এই কয়েক বছরে যেন একে অন্যের পরিপূরক হয়ে উঠেছে। তা শুধু অধিনায়ক হয়েছেন এ কারণে নয়। শুরু থেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন বিশ্বজয়ী স্প্যানিশ ডিফেন্ডার।

sergio ramos real madrid 2019 20

দুই পক্ষের মধ্যে এমন অটুট সম্পর্কের পরও স্প্যানিশ মিডিয়ায় কদিন ধরেই চলছে গুঞ্জন। প্রচারমাধ্যমগুলোর ধারণা, মৌসুম শেষে রিয়াল ছাড়তে পারেন রামোস। যদিও গুজবে পাত্তা দিলেন না অধিনায়ক; উড়িয়ে দিলেন স্রেফ খড়কুটোর মতো। রামোস জানালেন যতদিন রিয়াল চাইবে ততদিন এই দলটার হয়ে খেলে যাবেন তিনি।

আজ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রি কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ। এই মহারণের আগে সংবাদ সম্মেলনে ক্লাবকে এভাবেই আশ্বস্ত করেছেন রামোস। কিন্তু এভাবে নির্ভার করতে হবে কেন? ঠিক কী হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ এবং রামোসের মধ্যে?

তেমন কিছু হয়নি। আবার হয়েছে-ও। এই যেমন রিয়ালের সঙ্গে রামোসের বর্তমান চুক্তি শেষ হবে ২০২১ সালের মাঝপথে। স্প্যানিশ জায়ান্টরা চাইছে আরো দুই বছরের জন্য চুক্তির নবায়ন করতে। কিন্তু চুক্তি নিয়ে গড়িমসি করছেন রামোস। স্বাভাবিকভাবেই গুঞ্জন উসকে দিচ্ছে স্প্যানিশ গণমাধ্যমগুলো।

অবশেষে মুখ খুললেন রামোস। রিয়ালকে আশ্বস্ত করলেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে রামোস বলেছেন, ‘ক্লাবের সঙ্গে সময়ই আমার দারুণ সম্পর্ক রয়েছে। কাজেই এটা (নতুন চুক্তি) নিয়ে এত তাড়া নেই। না আমার দিক থেকে, না ক্লাবের। চিন্তার কিছু নেই। চুক্তির নবায়ন হওয়া সময়ের ব্যাপার। রিয়াল চাইলে আমি থাকব। এটা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।’ কথার ছলে রিয়ালের নীতি নির্ধারকদের কোর্টে বল পাঠিয়ে দিলেন অধিনায়ক।

রামোসের বয়স এখন ৩৩। এই বয়সটাকে সাধরণত ফুটবলের পড়ন্ত বেলা হিসেবেই ধরে নেওয়া হয়। এই বয়সী খেলোয়াড়দের সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির কথা ভাবে না দলগুলো। ক্লাবের এমন নীতির কথা রামোস নিজেও জানেন, ‘আমার চাহিদা কখনোই আকাশচুম্বি ছিল না। আমি বুঝতে পারছি খেলোয়াড়ের একটা বয়স হলে ক্লাবের কিছু নীতি নির্ধারিত থাকে। আমি জানি এটা নিয়ে কেউ কেউ উসকানি দিচ্ছে। যদিও তেমন কিছু হবে না।’

আজ ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ম্যাচ রিয়াল মাদ্রিদের। ম্যাচটা যতটানা সিটির বিরুদ্ধে তারচেয়েও বেশি গার্দিওলার বিপক্ষে। স্প্যানিশ এবং ব্রিটিশ মিডিয়া ম্যাচটার উত্তেজনা এভাবেই তুঙ্গে ওঠাচ্ছেন। কারণ গার্দিওলা রিয়ালের শত্রু শিবির বার্সেলোনার প্রাক্তন কোচ। স্বাভাবিকভাবেই রামোসকে কথা বলতে হলো এনিয়ে।

কোনো রাখঢাক না রেখেই রিয়াল অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমি গার্দিওলাকে অনেক শ্রদ্ধা করি। তিনি দুর্দান্ত এবং অনেক অভিজ্ঞ একজন কোচ। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব বা কোচের মুখোমুখি হচ্ছি আমরা এসব ভাবছি ন। আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি। কে প্রতিপক্ষ, কে কোচ এসব নিয়ে মাথা ঘামাই না।’

sheikh mujib 2020