advertisement
আপনি দেখছেন

এই মৌসুমে সবচেয়ে আলোচিত দল লিভারপুল। পুরো মৌসুমে একটি মাত্র ম্যাচ হেরেছে অল রেডরা। অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা এই দলটাকে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ দিয়েছে কেবল নাপোলি। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপপর্বে লিভারপুলকে হারিয়েছিল ইতালিয়ান ক্লাবটি। নক আউট পর্বের শুরুতে সেই নাপোলির মুখোমুখি হয়ে গেল বার্সেলোনা।

antoine griezmann messi 2020

বার্সার জন্য নাপোলি ম্যাচটা যে সহজ হবে না সেটা অনুমিতই ছিল। এবং হলো-ও তাই। মঙ্গলবার রাতে শেষ ষোলোর প্রথম লেগের ম্যাচে কোনোরকম নাপোলির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে বার্সা। সাও পাওলোর মহারণ আবার বার্সা শেষ করেছে দশ জনের দল নিয়ে। ম্যাচের অন্তিম প্রহরে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছেড়েছেন আর্তুরো ভিদাল।

যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে প্রি কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে চিলিয়ান মিডফিল্ডারকে দলে পাবে না বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবটির হতাশার আরো একটি খবর আছে। নাপোলির বিরুদ্ধে হলুদ কার্ড দেখে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে নিষিদ্ধ হলেন সার্জিও বুসকেটস। অস্বস্তির ম্যাচে বার্সার একমাত্র ইতিবাচক দিক হলো মহামূল্যবান একটি অ্যাওয়ে গোল।

নাপোলির মাঠে বার্সা স্বস্তির গোলটা করেছেন অ্যান্তনি গ্রিজম্যান। ৫৭ মিনিটে ফরাসি ফরওয়ার্ডের দুর্দান্ত গোলেই সমতায় ফেরে বার্সা। এর আগ পর্যন্ত বার্সার আক্রমণভাগকে ভালোই ভুগিয়েছে নাপোলি। ইতালিয়ান ক্লাবটির জমাট বাধা রক্ষণ যেন ভাঙতেই পারছিল না অতিথিরা। প্রথমার্ধে তো একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি কিকে সেতিয়েনের শিষ্যরা।

উল্টো প্রতি-আক্রমণে গোল হজম করে বসে বার্সা। ম্যাচের বয়স তখন আধঘণ্টা হয়েছে। বার্সার জাল কাঁপান ড্রিস মের্টেন্স। এই গোলে তিনি ছুঁয়েছেন নাপোলির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা মারেক হামসিককে (১২১ গোল)। মের্টেন্সের রেকর্ড ছোঁয়া গোলের দায় বার্সার জুনিয়র ফিরপোর। নিজেদের বিপদ সীময় বলের নিয়ন্ত্রণ হারান ফিরপো।

পল পেয়ে যান পিওতর জিলিনিস্কি। সেখান থেকে বল আশ্রয় নেয় ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা মের্টেন্সের পায়ে। বার্সার ডি-বক্সে ঢুকে রকেট গতির শটে বার্সার জালে বল পাঠিয়ে দেন তিনি। ম্যাচে লিড নেওয়ার পর আরো রক্ষণাত্মক হয়ে ওঠে নাপোলি। হতাশা বাড়তে থাকে কাতালান জায়ান্টদের। অবশেষে নেলসন সেমেদো ক্রস থেকে মান বাঁচানো গোলটি করেন গ্রিজমান।

ম্যাচে সমতা ফেরার পর সর্বস্ব নিয়ে বার্সার রক্ষণদুর্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে নাপোলি। কয়েক দফা আক্রমণও করেছে তারা। বার্সাকে এ যাত্রায় বাঁচিয়ে দিয়েছেন গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন। এদিন জার্মান গোলরক্ষক অতিমানব না হয়ে উঠলে বিপদ ঘটতে পারতো বার্সার। আলো ছড়িয়েছেন নাপোলির শেষ প্রহরী-ও।

দুই গোলরক্ষকের কল্যাণে ম্যাচটা অমীমাংসিতভাবেই শেষ হয়েছে। আগামী ১৮ মার্চ বার্সার মাঠ ন্যু ক্যাম্পেই তাই মীমাংসা হবে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের। কাল রাতে প্রথম লেগে দুই মিডফিল্ডার ভিদাল ও বুসকেটসকে হারিয়ে এক প্রকার অগ্নিপরীক্ষার ব্যবস্থাই করলেন মেসি অ্যান্ড কোং।