advertisement
আপনি দেখছেন

প্রথমার্ধে নিষ্ফলা লড়াইয়ের পর দ্বিতীয়ার্ধে খুলেছে গোলমুখ। কিন্তু এগিয়ে থেকেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারল না রিয়াল মাদ্রিদ। বুধবার রাতে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ২-১ গোলে হেরে গেছে জিনেদিন জিদানের দল। এই হারে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার পথটা কঠিন হয়ে গেল রিয়ালের জন্য।

manchester city celebrate 2019 20

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগের মহারণের প্রথমভাগে লড়াই হয়েছে সেয়ানে সেয়ানে। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেও প্রথমার্ধে কাঙ্খিত গোলের দেখা পায়নি কেউ। দ্বিতীয়ার্ধে হলো তিনটি গোল। ম্যাচের শেষ দিকে আবার লালকার্ড দেখলেন রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার সার্জিও রামোস। তাতেই তীব্র চাপে পড়ল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

প্রথম লেগে পিছিয়ে থাকার চাপ তো আছেই, রিয়ালের বিপদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে রামোসের লাল কার্ড। আগামী ১৭ মার্চ দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে নিষিদ্ধ হলেন দলের রক্ষণভাগের সেরা প্রহরী। কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে সিটির মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে রিয়ালকে করতে হবে দারুণ কিছু। খেলতে হবে অধিনায়ককে ছাড়াই।

ইউরোপের মঞ্চে আগের চারবারের সাক্ষাতে দুবারই হেরেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ড্র অন্য দুটিতে। কালও হারের পালা হয়েছিল তাদের। ৬০ মিনিটে ইস্কোর গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। এই গোলটার ওপর দাঁড়িয়ে জয়ের প্রহর গুণছিল জিদানের দল। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে পাল্টে গেল দৃশ্যপট।

৭৮ মিনিটে রিয়ালের জাল কাঁপান গ্যাব্রিয়েল জেসুস। দারুণ গোলে সিটিজেনদের সমতায় ফেরান ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। পাঁচ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে সিটিকে লিড এনে দেন বেলজিয়ান মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইনে। পিছিয়ে পড়া রিয়ালকে বিপদে ফেলে ৮৬ মিনিটে মাঠ ছেড়ে যান অধিনায়ক ও ডিফেন্ডার রামোস।

অবশ্য পথ হারিয়ে প্রিয় টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সেল্টা ভিগোর বিরুদ্ধে ড্র করার পর লেভান্তের মাঠে হেরেছে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। তারওপর এই ম্যাচে জিদান একাদশে পাননি ইডেন হ্যাজার্ডকে। চোট নিয়ে মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন বেলজিয়ান প্লে-মেকার। কাল রাতে তার অভাব বুঝল রিয়াল।

শুরুতে সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে নামতে পারেনি ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা-ও। চোট মহারণ থেকে কেড়ে নিয়েছে স্ট্রাইকার সার্জিও অ্যাগুয়েরোকে। রহিম স্টার্লিং মাঠে নেমেছেন বিরতির পর। ইংলিশ ফরওয়ার্ড মাঠে নামতেই যেন পাল্টে যায় সিটির আক্রমণভাগের চেহারা। রিয়াল ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের ভালোই পরীক্ষা নিয়েছে তারা।

পরীক্ষা দিয়েছেন সিটি গোলরক্ষক এডারসনও। ম্যাচে বেনজেমা-ভিনিচিয়াসদের কয়েকটি শট রুখে দিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান শেষ প্রহরী। আলো ছড়িয়েছেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবাউট কোর্তোয়া-ও। রিয়ালকে কয়েক দফা বাঁচিয়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোলবার অক্ষত রাখতে পারেননি বেলজিয়ান সেনসেশন।

দ্বিতীয় গোলটায় অবশ্য কোর্তোয়ার কিছু করার ছিল না। ৮২ মিনিটে সিটি ফরওয়ার্ড স্টার্লিংকে ফাউল করেন ড্যানি কারভাহাল। ‘ভিএআরে’র সহায়তা নিয়ে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন ম্যাচকর্তা। সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি ডি ব্রুইনে; স্পট কিক থেকে করেন গোল। একটু পর ফের ধাক্কা রিয়াল শিবিরে। পেছন থেকে জেসুসকে টেনে ধরে সরাসরি লালকার্ড দেখেন রামোস।

রিয়াল মাদ্রিদ ক্যারিয়ারে এনিয়ে ২৬ বারের মতো মাঠ থেকে অপসারিত হলেন রামোস। ম্যাচটা ভুলে যেতে চাইবেন করিম বেনজেমাও। অথচ ম্যাচটা ছিল তার দিারুণ এক মাইলফলক ছোঁয়ার উপলক্ষ্য। এদিন রিয়ালের ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে শততম ম্যাচ খেলার গণ্ডি ছুঁয়েছেন ফরাসি স্ট্রাইকার। এমন ম্যাচে বড্ড বিবর্ণ ছিলেন বেনজেমা।