advertisement
আপনি দেখছেন

ছন্নছাড়া ফুটবল ও বাজে রেফারিংয়ের শিকার হলো বার্সেলোনা। স্প্যানিশ লা লিগায় আবারো পয়েন্ট খোয়াল কাতালান ক্লাবটি। এবার বার্সা পয়েন্ট হারিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে। মঙ্গলবার রাতে ন্যু ক্যাম্পে এসে মেসিদের ২-২ গোলে রুখে দিয়েছে মাদ্রিদ জায়ান্টরা। এই হোঁচটে শিরোপা স্বপ্নে বড়সড় একটা ধাক্কা খেল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

lionel messi barcelona atletico madrid 2019 2020

পুরো ম্যাচে হওয়া চার গোলের একটিতেও থাকল না ফুটবলের চিরায়িত সৌন্দর্যের ছাপ। প্রথম গোলটি হয়েছে আত্মঘাতী থেকে। ন্যু ক্যাম্প পরের তিনটি গোলই দেখেছে পেনাল্টি থেকে। সেখানেও আবার কত নাটক। দুইবার পেনাল্টি নিয়ে প্রথম গোলের দেখা পেয়েছে অ্যাটলেটিকো। তাদের দ্বিতীয় পেনাল্টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক।

তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল লিওনেল মেসির স্পট কিক থেকে গোল করাটা। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের জালে জাল কাঁপিয়ে আর্জেন্টাইন সুপারস্টার অপেক্ষা ঘুচিয়েছেন ভক্তদের; ছুঁয়েছেন স্বপ্নের ৭০০ গোলের মাইলফলক। কয়েক মাস আগে মেসির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো-ও স্বপ্নের গোলটি করেছিলেন পেনাল্টি থেকে!

messi barcelona 2020 1

১১ মিনিটে ডিয়েগো কস্টার ভুলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে ব্যাক হিল করেন ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ স্ট্রাইকার! বল জড়িয়ে যায় নিজেদের জালে। উপহার সূচক আত্মঘাতী গোলের আনন্দে মেতে ওঠে বার্সা। তাদের আনন্দ মাটি হয়ে গেছে একটু পরই। পেনাল্টি পায় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। কস্টার শট ঠেকিয়ে দেন বার্সা গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন।

এরপরই নাটক। খলনায়ক বনে যাওয়া কস্টার নেওয়া শটটা বাতিল করে দেন রেফারি। পুনরায় পেনাল্টি পায় অ্যাটলেটিকো। কারণ কস্টার শটের আগেই গোললাইন ছেড়ে এক ফুট সামনে চলে এসেছিলেন টের স্টেগেন। এনিয়ে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেন জেরার্ড পিকে। নিয়ম ভাঙায় জার্মান গোলরক্ষকও দেখলেন কার্ড!

সেই ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে একটুপরই। এবার আর কস্টা নয়, ‘দ্বিতীয়’ পেনাল্টি নেন সউল নিগেজ; স্পট কিক থেকে সমতায় ফেরান অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে। এরপর গতি কমে আসে ম্যাচের। ঘুমপাড়ানি ফুটবল চলল বিরতির আগ পর্যন্ত। এ সময়ে কয়েক দফা গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছে দুই দল। মহারণ জেগে ওঠে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই।

remarkable goal for messi 1

এবার পেনাল্টি বার্সেলোনার অনুকূলে। প্রত্যাশিতভাবেই স্পট কিক থেকে গোল করেন মেসি। দ্বিতীয়বার এগিয়ে যায় কাতালানরা। এই গোলের লিডটাও ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৬১ মিনিটে বিতর্কিত এক সিদ্ধান্ত দিয়ে বসেন রেফারি। পেনাল্টি দেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে। অথচ সূক্ষ্ণ সিদ্ধান্তটা নেওয়ার আগে ভিএআর দেখার প্রয়োজনও মনে করেননি রেফারি!

টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বার্সার ডি-বক্সে পড়ে যান দৌড়ে আসা ক্যারাসকো। পেছন থেকে নেলসন সেমেদোর পা অ্যাটলেটিকো তারকাকে স্পর্শ করেছে কিনা বিতর্কটা এখানেই। সুযোগ সন্ধানী ডিয়েগো সিমনের দল ফের গোল করে। দ্বিতীয় দফায় ম্যাচে সমতায় ফেরান নিগেজ। এরপর আবার ছন্নছাড়া ফুটবল খেলতে থাকে বার্সা।

a very bad night for costa 1

যার মাসুল গুণতে হলো দুই পয়েন্ট খুইয়ে। এনিয়ে চার ম্যাচের তিনটিতেই পয়েন্ট হারাল বার্সা। অথচ এদিন শীর্ষে ওঠার সুযোগ ছিল কাতালানদের। রিয়াল মাদ্রিদকে টপকাতে পারতো তারা। কিন্তু ড্র করে রিয়ালের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান এক করে ফেলল বার্সা। রিয়াল পরের ম্যাচে জিতলে ব্যবধান বেড়ে হবে চার পয়েন্টের। স্বাভাবিকভাবেই হতাশ বার্সা। ৩৩ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট এখন ৭০।

এক ম্যাচ কম খেলে এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে শিরোপা দৌড়ে আরো এগিয়ে গেল জিনেদিন জিদানের দল। প্রতিবেশী ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে একটা ধন্যবাদ দিতেই পারে রিয়াল মাদ্রিদ। মাদ্রিদে এদিন যতটা আনন্দে রাতটা কেটেছে ততটাই হতাশা কাতালানজুড়ে। হতাশার ম্যাচে বার্সার প্রাপ্তি বলতে মেসির মাইলফলক ও রিকি পুইগের ম্যাচ সেরা হওয়াটা। স্প্যানিশ তরুণ এদিন কী খেলাটাই না দেখালেন!

sheikh mujib 2020