advertisement
আপনি দেখছেন

মূল কাজটা প্রথম লেগেই সেরে ফেলেছিলো ম্যানচেস্টার সিটি। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম পর্বে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) মাঠ থেকে ফিরেছে ২-১ গোলের জয় নিয়ে। খুব স্বাভাবিকভাবেই টুর্নামেন্টে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে পিএসজির। ফিরতি লেগে ম্যাচের দ্বিতীয় ভাগের মাঝপথে তা হয়ে ওঠে অসম্ভব।

man city vs psg 2021

লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াকে। প্রথম লেগেও পুরো দল নিয়ে খেলা শেষ করতে পারেনি পিএসজি। মঙ্গলবার রাতে ১০ জনের দল নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে পিএসজি হারল ২-০ গোলে। দুই লেগ মিলে ৪-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল শিরোপা প্রত্যাশি পিএসজি। আর প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠে গেল সিটি।

তবে ইউরোপিয়ান শীর্ষস্থানীয় টুর্নামেন্টে দীর্ঘ ৫১ বছর পর ফাইনালে উঠল সিটিজেনরা। পিএসজির টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠার সুযোগ ছিল। সেটা প্রায় কঠিনতর করে তোলে প্রথম লেগে ঘরের মাঠে হেরে। দ্বিতীয় লেগটা তাদের জন্য হয়ে ওঠে অগ্নিপরীক্ষার মঞ্চ। কারণ ইনজুরির কারণে একাদশে নেই কিলিয়ান এমবাপ্পে।

পিএসজির ভাগ্যটাই এমন। মহাগুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেইমার কিংবা এমবাপ্পে- একজনকে লড়তে হয় ক্লাবের স্বপ্ন নিয়ে, অন্যজনকে লড়তে হয় নিজের ইনজুরির সঙ্গে। এই যেমন কাল রাতে মাঠে আপ্রাণ চেষ্টা করেও সিটির দুর্ভেদ্য দেওয়াল ভাঙতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার। ডাগ আউটের পেছনে দর্শক চেয়ারে বসে এমবাপ্পে দেখলেন দলের হার।

neymar man city vs psg 2021

সিটির জয় ও ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে দুই অর্ধের সহজ দুই গোলে। দুটো গোলই করেছেন দলটির আলজেরিয়ান ফরওয়ার্ড রিয়াদ মাহরেজ। ১১ মিনিটে লিড নেওয়া সিটি ৬৩ মিনিটে বাড়ায় ব্যবধান। দুই গোল পিছিয়ে থাকা পিএসজি সমতায় ফেরা তো দূরে থাক, একটি গোলের শোধও দিতে পারেনি। কীভাবে পারবে, ৬৯ মিনিটে যে দশ জনের দলে নেমে আসে পিএসজি!

মাঠের বাইরে সিটি মিডফিল্ডারের পা মাড়িয়ে লাল কার্ড দেখেন আর্জেন্টাইন উইঙ্গার। ডি মারিয়ার এমন শাস্তিতে রেফারির তঙ্গে তর্কে জড়ান পিএসজি ফুটবলাররা। পরিস্থিতি শান্ত হয়। একটু পর মার্কো ভেরাত্তি ট্যাকল করেন সিটির বার্নাডো সিলভাকে। এবার হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের ফুটবলাররা। ছড়ায় উত্তাপ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে রেফারিকে খরচ করতে হলো দুটি হলুদ কার্ড।

পিএসজি আরো একটি গোল হজম করতে পারতো। সেটা হয়নি ভাগ্যের জেরে। ম্যাচের শেষ দিকে ফিল ফোডেনের কোনাকুনি বুলেট গতির শট প্রতিহত হয় পিএসজির পোস্টে লেগে। ওদিকে দুই অর্ধে দুবার হ্যান্ডবলের দাবি জানিয়েও পেনাল্টি পায়নি পিএসজি। এদিক থেকে নিজেদের দুর্ভাগা মনে করতে পারে প্যারিসিয়ানরা।