advertisement
আপনি দেখছেন

সাবেক দুই চ্যাম্পিয়নের লড়াই। চলমান ইউরো টুর্নামেন্টেও ফেভারিটের তালিকায় আছে তাদের নাম। ডেথ গ্রুপ খ্যাত ‘এফ’ গ্রুপে আছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরাও। তাদের মুখোমুখি হওয়া মানে বিশেষ কিছু। বাড়তি উন্মাদনা। কিন্তু তেমন কিছু হলো না ফ্রান্স-জার্মানির মহারণে। আগুন ঝরাতে পারেনি কোনো চ্যাম্পিয়নরা। ভাগ্যিস ম্যাচটা ফল উপহার দিয়েছে!

euro 2020 france germany

মহারণে শেষ হাসি হেসেছে ফ্রান্স। মিউনিখে গিয়ে জার্মানিকে ১-০ গোলে হারিয়ে এসেছেন এমবাপ্পে-কান্তেরা। কিন্তু ভ্রু কুঁচকানোর ব্যাপার হচ্ছে, ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করেননি ফরাসিদের কেউ! সৌভাগ্যবশত ম্যাট হ্যামেলসের আত্মঘাতী গোলই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডারের ভুলেই কপাল পোড়ে জার্মানদের।

ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল জার্মানি ও স্পেন। দুই দলই সমান তিনটি করে শিরোপা জিতেছে। জার্মানরা সবশেষ শিরোপা জিতেছে আড়াই দশক হয়ে গেছে। তবে বহু বছর ধরে রাজত্ব উদ্ধারে ব্যর্থ হলেও জার্মানদের একটা রীতি আছে। ইউরোতে সবসময় জয় দিয়েই মিশন শুরু করে তারা। কাল রীতিটা ভেঙে দিল ফরাসিরা।

তাও আবার মিউনিখের অ্যালিয়েঞ্জ এরিনায় এসে! ইউরো টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম, শুরুর ম্যাচ জিততে পারল না জার্মানি। ম্যাচের ৬০ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে, প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি আক্রমণ করেও ফলটা নিজেদের অনুকূলে আনতে পারেনি তারা। ম্যাচে ফরাসিদের রক্ষণদুর্গে ১০টি শট নিয়েছে জার্মানরা। নিরাশ হওয়ার তথ্য হচ্ছে, এর একটি লক্ষ্যে ছিল।

ফরাসিদের শট ছিল চারটি। তন্মধ্যে গোলমুখে একটি। সেই শটটা নিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বুলেট গতির শটে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ফরাসি ফরওয়ার্ড। শটাটা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ার। ম্যাচটা যে জার্মানদের জন্য সহজ হবে না তা বোঝা গেল তাতেই। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ কম হয়নি ম্যাচটাতে। কিন্তু গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন দুই দলের ফরওয়ার্ডরা।

তবে ফরওয়ার্ডদের ব্যর্থতা আড়াল হয়ে গেল জার্মান ডিফেন্ডার ম্যাট হ্যামেলসের এক অমার্জনীয় ভুলে। কুড়ি মিনিটে পল পগবার দুর্দান্ত ক্রস পান লুকাস হার্নান্দেজ। বায়ার্ন মিউনিখ মিডফিল্ডার এমবাপ্পের উদ্দেশ্যে বল বাড়ান। বলটাকে বিপদমুক্ত করতে চেয়েছিলেন হ্যামেলস। কিন্তু বল ক্রসবারের ওপরে নয়, তার শট ঢুকে গেল নিজেদেরই জালে! উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে ফ্রান্স।

এরপর সমতায় ফেরার বেশ কয়েকটা সুযোগ পেয়েও ম্যাচে ফিরতে পারেনি জার্মানি। জিন্যাব্রি-মুলাররা নিজেদের হারিয়ে খুঁজলেন কেবল। তবে গোল না পেলেও এমবাপ্পেরা দারুণ আক্রমণ করেছেন। ৬৬ মিনিটে তো জালের খোঁজও পেয়েছিলেন পিএসজি তারকা। আর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল করেন করিম বেনজেমা। যদিও দুটো গোলের একটিও টেকেনি।

এমবাপ্পে অফসাইডের ফাঁদে পড়েছেন। এ কারণে তার গোলটা বাতিল হয়। একইভাবে বলি হয়েছে বেনজেমার গোলটাও। পার্থক্য হচ্ছে, রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকারের গোল রেফারি বাতিল করেন ভিএআরের সহায়তায়। সবমিলিয়ে ফ্রান্স ম্যাচে গোল না পেলেও তাদের আক্রমণগুলো বেশ ইতিবাচক ছিল। অন্যদিকে বেশ কয়েকবার জার্মানরা চেষ্টা করলেও তাদের আক্রমণগুলো প্রায় নিষ্প্রাণ ছিল।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের শুরুতে হজম করা আত্মঘাতী গোলটার আর শোধ দিতে পারেনি জার্মানি। তাই ধাক্কা খেয়েই মিশন শুরু করতে হলো তাদের। তাতে করে নক আউট পর্বে ওঠাটা আরো কঠিন হয়ে গেল জার্মানদের জন্য। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে গ্রুপের পরের দুই ম্যাচে জিততেই হবে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের। অন্যথায় বেজে যেতে পারে বিদায় ঘণ্টা।

প্রথম ম্যাচটা জিতে সেদিক থেকে কিছুটা নির্ভার থাকল ফ্রান্স। আগামী শনিবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচটা হাঙ্গেরির সঙ্গে খেলবে ফরাসিরা। একই দিনে জার্মানদের আরেকটা পরীক্ষা দিতে হবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের কাছে। যারা কিনা কাল রাতে গ্রুপের প্রথম ম্যাচে হাঙ্গেরিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। পর্তুগিজরা ম্যাচের শেষ সময়ে আট মিনিটের ব্যবধানে গোলগুলো করেছে।