advertisement
আপনি দেখছেন

রিয়াল মাদ্রিদ যুব দল থেকে উঠে এসেছেন। খেলেছেন রিয়ালের বি ও সি দলে। মূল দলের জন্যও তাকে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু স্বপ্নপূরণ হলো না রাউল ডি টমাসের। কাগজে কলমে পাঁচ বছর রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় হলেও মাঠে দেখা গেল না তাকে। এই সময়ে স্পেনের তিনটি ক্লাবে ধারে খেলেছেন টমাস।

raul de tomas 2021রাউল ডি টমাস

কিন্তু পরগাছা হয়ে আর কতদিন? ২০১৯ সালে মুক্তি মেলে। এরপর পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকায় যোগ দেন টমাস। কিন্তু সেখানেও অভিজ্ঞতাটা সুখের হয়নি। অর্ধেক মৌসুমে ম্যাচ খেলতে পেরেছেন কেবল সাতটি। পরের বছরই টমাস ফিরে আসেন স্প্যানিশ ফুটবলে। নাম লেখান এস্পানিয়লে। এখানে এসেই পায়ের তলার শক্ত মাটি খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

হয়ে উঠেছেন দলের প্রাণভোমরা। রোববার রাতে অগ্নিপরীক্ষার ম্যাচেও জ্বলে উঠেছেন এই ফরওয়ার্ড। গোল করেছেন সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে। ১৭ মিনিটে করা টমাসের গোলটাই এস্পানিয়লের জয়ের জন্য যথেষ্ঠ ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান অ্যালেক্স ভিদাল। করিম বেনজেমা রিয়ালের পক্ষ সান্ত্বনার গোল করলেও হার ঠেকাতে পারেননি।

স্প্যানিশ লা লিগার চলতি মৌসুমে এটা রিয়ালের প্রথম হার। সবমিলিয়ে টানা দ্বিতীয় হার। আর টানা তিন ম্যাচ ধরে জয়হীন কার্লো আনচেলত্তির দল। এস্পানিয়ল ম্যাচে ছন্দে ফিরতে মরিয়া ছিল। কিন্তু ম্যাচজুড়ে তাদের দন্তহীন বাঘ মনে হয়েছে। রিয়াল কোচ যথার্থই বলেছিলেন, ‘এই আমাদের প্রাপ্য ছিল। আমরা খুব একটা আগ্রাসী ছিলাম না।’

আসলে আগ্রাসন কাকে বলে, সেটা দেখিয়েছে এস্পানিয়ল। আরেকটু ছোট করে বললে টমাস। সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত খেলেছেন ২৬ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। রিয়ালের বিপদসীমায় টমাস ঢুকেছেন সাপের মতোই। কয়েকবার তো ফণাও তুলেছেন। ম্যাচের শুরুতে গোল করেছিলেন, যা কাল হয়ে দাঁড়ায় রিয়ালের জন্য। দুধকলা দিয়ে তাহলে কালসাপ পুষেছিল রিয়াল? এমনটা ভাবা অমূলক নয়।

কিন্তু টমাস? এই ম্যাচটা তার জন্য কেমন অনুভূতির ছিল? শৈশবের স্বপ্নপূরণের খুব কাছে থেকেও রিয়াল মাদ্রিদের মূল দলের জার্সিতে খেলা হলো না। অর্ধদশক এই ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে থেকেও বিদায় নিতে হলো উপেক্ষিত থেকে। রোববার রাতে সেই ক্লাবের বিপক্ষেই গোল। তাতে রিয়ালকে যেন সব অপমান, ক্রোধ এবং হতাশার জবাব দিয়েছেন টমাস। তার উদযাপন অন্তত সেটাই বলছে।

ঘরের মাঠে লা লিগার ম্যাচটা এস্পানিয়ল জিতেছে ২-১ গোলে। এর মধ্য দিয়ে তিন বছর পর ফের রিয়ালকে হারাল তারা। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের ১৩ নম্বরে উঠে এসেছে এস্পানিয়ল। রিয়াল মাদ্রিদ অবশ্য হারের পরও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।