advertisement
আপনি দেখছেন

ডেভিড বেকহ্যাম। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেছেন। ক্লাব ফুটবল ছেড়েছেন আরো চার বছর পর। বুট জোড়া তুলে রাখলেও ফুটবল থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেননি ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক। কিনে নেন মার্কিন ফুটবল ক্লাব ইন্টার মিয়ামির মালিকানার অংশ।

beckhamরমরমা বেকহ্যামের বাজার

বেকহ্যামের ক্লাব ভালোই চলছে। পর্যাপ্ত মুনাফা আসছে সেখান থেকে। কিন্তু ক্লাব মালিক বা একজন সংগঠক হিসেবে নয়, বেকহ্যামের বাজার রমরমা অন্য কারণে। ব্যক্তিগত সুনাম দারুণভাবেই কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। ফুটবল ছাড়ার পরও অর্থ আয় করছেন দু'হাত ভরে। পরিমাণটাও আগের চেয়ে অনেক বেশি।

একটা পর একটা বাণিজ্যিক চুক্তি করছেন রিয়াল মাদ্রিদের প্রাক্তন প্লে-মেকার। সম্প্রতি কাতারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। আগামী বছর ফিফা কাতার বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করবেন তিনি। এতে করে আগামী দশ বছরে ১৭৫ মিলিয়ন ইউরো আয় হবে তার।

খেলোয়াড়ি জীবনে অনেক বড়বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত হয়েছিলেন বেকহ্যাম। বুট জোড়া তুলে রাখার পর যেন আরো বিখ্যাত হয়ে গেছেন তিনি। এই মুহূর্তে বিশ্বের অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসডের ৪৬ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী ও সাবেক ফুটবলার।

ব্রিটিশ প্রচারমাধ্যম 'দ্য সান' একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে বেকহামের ব্যাপারে বলা হয়েছে, 'ডেভিড বেকহ্যাম কাতারের অগ্রগতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রথমবার আরব বিশ্বে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ইতিবাচক পরিবর্তনে প্রভাব রাখতে পারেন।'

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের এক মুখপাত্রের বরাতে আরো বলা হয়, 'তিনি প্রবলভাবে বিশ্বাস করেন যে, বৈষম্য দূর করতে ফুটবল সেতু হিসেবে কাজ করে।' কাতারের সঙ্গে বেকহ্যামের চুক্তির অংক নিয়ে অবশ্য ধোঁয়াশা আছে। অন্য একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয় কাতারের সঙ্গে চুক্তি করায় ৩৩০ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত আয় হতে পারে তার।

গত দুই দশকে অ্যাডিডাস, আরমানি, পেপসিসহ অসংখ্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করেছেন বেকহ্যাম। এখনো কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। খেলোয়াড়ি সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের সঙ্গ আজীবনের চুক্তি আছে তার। এ জন্য তাকে ১১৫ মিলিয়ন পাউন্ড প্রদান করেছে অ্যাডিডাস।

এ ছাড়া টিউডোর, হেইগ ক্লাব, ইম্পোরিও আরমানি, জিলিটের সঙ্গে সঙ্গে চুক্তি আছে বেকহ্যামের। এসব প্রতিষ্ঠান থেকেও বার্ষিক উল্লেখযোগ্য একটা অংক পান তিনি। বেকহ্যাম ছাড়াও টাইগার উডস, রজার ফেদেরার এবং থিয়েরি অঁরির সঙ্গেও চুক্তি আছে প্রতিষ্ঠানগুলোর।

২০০৪ সালে প্রথমবার বেকহ্যামের সঙ্গে চুক্তি হয় জিলিটের। প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপনী দূত হিসেবে কাজ করেন তিনি। এর ফলে জিলিট বার্ষিক তিন মিলিয়ন পাউন্ড প্রদান করে প্রদান করেন ইংলিশ প্রাক্তন ফুটবলারকে। এ ছাড়া আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন বেকহ্যাম। চতুমুখি এসব কাজের কারণে ফুলেফেঁপে উঠছে তার পকেট।