advertisement
আপনি পড়ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর সবাই ভেবেছিল এবার হয়তো রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কটা স্বাভাবিক হবে। ট্রাম্প-পুতিনের আলোচিত ফোনালাপ এবং এক সঙ্গে কাজ করা ইচ্ছাও সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছিল। কিন্তু ফোনালাপের এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই জানা গেল, রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তিটি বাতিল করতে চান ট্রাম্প। ফলে আবারো নাটকীয় মোড় নিচ্ছে আমেরিকা-রাশিয়া সম্পর্ক।

donald trump moody

মার্কিন নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, '২০১০ সালে রাশিয়ার সঙ্গে যে 'পরমাণু হ্রাসকরণ' চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে সেটি আর নবায়ন করতে চাই না।' রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপেও ট্রাম্প নাকি এ কথা বলেছেন। অথচ ফোনালাপের পর এই দুই ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের গণমাধ্যমে এমন কোন খবর আসেনি। চুক্তি বাতিলের কারণ হিসেবে ট্রাম্প মনে করেন, এই চুক্তিটি আমেরিকার জন্য সুফল বয়ে আনছে না। এটা আমেরিকার জন্য খারাপ চুক্তি।

জানা গেছে, আমেরিকার সিংহাসনে বসার পর গত ২৮ জানুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ফোন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, 'পরমাণু হ্রাস করণ চুক্তিটি রাশিয়ার পক্ষে গেছে। ফলে সেটি আর নবায়ন করতে ইচ্ছুক নয় আমেরিকা।' ফোনালাপের প্রায় ১০ দিন পর মার্কিন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে।

রয়টার্স জানায়, 'বিদেশি নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন আলোচনা বা ফোনালাপের জন্য ট্রাম্পের পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন না। তাই ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপের বিষয় বস্তু বিস্তারিত গণমাধ্যমে জানানো হয়নি।' এমন প্রতিবেদনের পর হোয়াইট হাউস এখনো কোন মন্তব্য করেনি। তবে ফোনালাপের তথ্য কিভাবে ফাঁস হলো বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা বলেছে। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ফোনালাপের এমন তথ্য ফাঁস হওয়া উদ্বেগজনক বলে মনে করে হোয়াইট হাউস।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে এই পরমাণু হ্রাসকরণ চুক্তিটি সই হয়। এই 'নিউ স্টার্ট' চুক্তি অনুযায়ী, দেশ দুটি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে তাদের পরমাণু ওয়ারহেড ১,৫৫০-তে কমিয়ে আনবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।