advertisement
আপনি দেখছেন

ফুসফুসে ছোট এক ফুটো নিয়েই জন্মগ্রহণ করেছিলো শিশু আরাধ্য। তার প্রয়োজন পড়েছিলো অস্ত্রোপচারের। কিন্তু সে অস্ত্রোপচার খুবই জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। অস্ত্রোপচার করতে গিয়েই শিশুটির হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসকরা কৃত্রিমভাবে হৃদযন্ত্র স্বক্রিয় করার চেষ্টা করে যান। কিন্তু ৪৫ মিনিটজুড়ে চেষ্টায়ও কোনো ফল মিলেনি। চিকিৎসকরা যখন হতাশ হয়ে শিশুটির বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, ঠিক তখনই নড়ে উঠে আরাধ্য!

aradhya a child who survive after her heart was off for 45 minutes

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ফুসফুসে থাকা ফুটোটার কারণে তার শরীরে রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিলো প্রতি মুহূর্তে। এ ছাড়া শরীরে অক্সিজেনের সরবারহও ঠিক মতো হচ্ছিলো না। ফলে তার শরীর হয়ে যাচ্ছিলো নীলচে। চিকিৎসকরা বলছিলেন, এই শিশু এভাবে বেশি দিন বাঁচবে না। তারপরও একটা শেষ চেষ্টা করে দেখার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্ত এবং চিকিৎসকদের চেষ্টায় শিশুটি শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছে।

শিশুটির অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক দলে ছিলেন বিশ্ব পান্ডে। তিনি জানান, ফুসফুসে অস্ত্রোপচার করার পর শিশুটির শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হতে সময় লেগে যায় ২৬ ঘণ্টার মতো। এর মধ্যেই, ১৮ ঘণ্টা পর ৪৫ মিনিটের মতো তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ থাকে।

তিনি আরো জানান, এ সময় চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং কৃত্রিমভাবে ওই শিশুর শ্বাস স্বক্রিয় রাখার চেষ্টা করেন। তাতেও কাজ হয়নি। ৪৫ মিনিট তার হৃদযন্ত্র একেবারেই কাজ করেনি। তারপরও শিশুটি হঠাৎ নড়ে উঠে এবং আরো সোয়া সাত ঘণ্টার মধ্যে তার শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

চিকিৎসক জানান, শিশুটি তার মায়ের গর্ভে থাকতেই সমস্যাটির শিকার হয়। এ ধরনের সমস্যাগ্রস্ত শিশুদের বাঁচিয়ে তোলা কঠিন। কিন্তু আরাধ্যের ব্যাপারটি খুব ভালো ছিলো। এটি চিকিৎসকদের জন্য দারুণ আনন্দের ব্যাপার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পান্ডে আরো জানান, শিশুটির পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। সে দিকে বিবেচনা করে শিশুটির চিকিৎসার কোনো খরচ নেয়া হয়নি।