advertisement
আপনি পড়ছেন

স্মরণকালের সবচাইতে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ আর জাতিগত নিধন চলছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। রোহিঙ্গাদের রক্তে লাল হয়ে আছে সীমান্তের নাফ নদী। অথচ রোহিঙ্গাদের এই কান্নায় ঘুম ভাঙে না বিশ্ব বিবেকের। তবে দেরিতে হলেও দু-চারজন রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধে সোচ্চার হচ্ছেন।

Desmond Tutu south africa

রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধ করতে বিশ্ব মোড়লরা আস্তে আস্তে জেগে উঠছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সবাই মিয়ানমারের গণতন্ত্রের অগ্নিকন্যা, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সাং সু চিকে ঘুম থেকে জেগে ওঠার আহ্বান জানাচ্ছেন। চুপ করে থাকেননি দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ডেসমন্ড টুটু। তিনি বলেছেন, 'রোহিঙ্গা নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে চড়া মূল্য দিতে হবে অং সাং সু চিকে।'

নোবেল বিজয়ী এই সাবেক ধর্মযাজক সু চিকে লেখা এক খোলা চিঠিতে বলেছেন, 'বার্ধক্য আমাকে অন্তিম সময়ে নিয়ে এসেছে। আমি জরাগ্রস্ত, অবসর নিয়েছি সবকিছু থেকে। ঠিক করেছিলাম সার্বজনীন ইস্যুতে প্রকাশ্যে কিছু বলবো না। কিন্তু তোমার দেশের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন-অত্যাচার আর গভীর সংকটের কারণে আমি নিরবতা ভাঙছি।'

৮৫ বছর বয়সী টুটু বিশ্বব্যাপী এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক আর্চ বিশপ। যিনি প্রায় দুই দশক ধরে প্রোস্টেট ক্যান্সারে ভুগছেন। প্রায় অচল এই নেতাও মুখ খুলেছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে। রোহিঙ্গাদের কষ্ট-যন্ত্রণা হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন।

সু চিকে উদ্দেশ্য করে টুটু বলেছেন, হে আমার ভগ্নি: মিয়ানমারের রাজনৈতিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোই কি তোমার নীরবতার কারণ? যদি সত্যিই সেটা হয়ে থাকে তাহলে তোমাকে বড় বেশি দাম দিতে হচ্ছে। প্রার্থনা করি, শেষপর্যন্ত তুমি ন্যায়বিচারের পক্ষেই কথা বলো, মানবতার জয়গান হোক তোমার মুখে। প্রার্থনা করছি, মানুষের নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধে তুমি হস্তক্ষেপ করো। মানবতার জয় হোক।'