আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 29 মিনিট আগে

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর জবানে জানা গেলো এক সাহসী যুবকের গল্প। যে নিজের জীবনের পরোয়া না করে হামলাকারীকে ঠেকিয়ে দিয়েছেন। ওই যুবকের কাছ থেকে বাধা পেয়েই হামলাকারী একসময় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

eyewitness of terosit attack

সৈয়দ মাজহারুদ্দিন লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার একজন প্রত্যক্ষদর্শী। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, যখন হামলা শুরু হয় তখন তিনি ঘটনাস্থলের খুব কাছেই ছিলেন।

গুলির শব্দ শুরু হতেই আশেপাশের মানুষজন সবাই চিৎকার করে লুকাতে শুরু করে। মাজহারুদ্দিনও নিজেকে আড়ালে নিয়ে যান। আড়াল থেকেই দেখতে পান বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একজন ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে সোজা মসজিদের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় মসজিদের ভেতরে ৬০ থেকে ৭০ জন মুসল্লি ছিলেন।

মসজিদের ভেতরে পা রেখেই এলোপাথাড়ি গুলি করতে থাকে হামলাকারী। বেছে বেছে প্রত্যেকটা, একেবারে প্রত্যেকটা মানুষকে গুলি করতে থাকে সন্ত্রাসীটি, বলেন মাজহারুদ্দিন।

এ সময় এক যুবক হামলাকারীকে থামাতে এগিয়ে আসে। সে আসলেই একজন 'হিরো'। ওই যুবকটি মসজিদের দেখাশোনা করতো। সুযোগ বুঝে এক সময় সন্ত্রাসীর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে এবং এক ঝটকায় তার বন্দুক কেড়ে নেয়।

ঘটনার আকস্মিকতায় বন্দুক হাতে নেয়ার পরও বন্দুকের ট্রিগার খুঁজে পাচ্ছিলো না ওই যুবক। এই ফাঁকে দৌঁড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসে হামলাকারী। বাইরে তার বন্ধুরা গাড়িতে অপেক্ষা করছিলো।

মাজহারুদ্দিন বলেন, ওই যুবকও হামলাকারীর পেছন পেছন দৌঁড়ে মসজিদের বাইরে বের হয়ে আসে। সে সময় গাড়িতে থাকা সন্ত্রাসীর সঙ্গীরা তার দিকে গুলি ছুঁড়ে। বুকে ও মাথায় গুলি লেগে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই যুবক। এই সুযোগে সব সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

ওই যুবকের শরীর থেকে প্রচুর রক্ত বেরোচ্ছিলো। সাথে সাথেই ইমার্জেন্সি সার্ভিসে ফোন দেন মাজহারুদ্দিন। কিন্তু তারা আসার আগেই প্রচুর রক্তক্ষরণে ওই যুবক মারা যান।