advertisement
আপনি দেখছেন

গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন উপলক্ষে ইসরায়েল ও গাজার মধ্যকার বাফার জোনে (নিরাপদ অঞ্চল) হাজার হাজার ফিলিস্তিনি জড়ো হয়েছেন। ইসরায়েলের দখলদারের বিরুদ্ধে গণ-বিক্ষোভের বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার তারা জড়ো হন। এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত হয়েছে।

gaza israel buffer zone

গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন ছাড়াও ভূমি দিবসের ৪৩তম বার্ষিকীও উদযাপন করছেন ফিলিস্তিনিরা। ১৯৭৬ সালে গালিলিতে আরব ভূমি দখলের প্রতিবাদ জানাতে গেলে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হন। তখন থেকে ভূমি দিবস উদযাপন করে আসছেন ফিলিস্তিনিরা।

তুর্কি গণমাধ্যম আনাদলু বলছে, ফিলিস্তিনি পতাকা নাড়িয়ে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। এ ছাড়া গাজার ওপর ইসরায়েলের আরোপ করা ১২ বছরের অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিও জানাচ্ছেন তারা।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, ৩০ হাজারের মতো ফিলিস্তিনি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে বলে উল্লেখ করেছে আনাদলু।

খবরে বলা হয়েছে, কয়েক ডজন স্বেচ্ছাসেবক ফ্লুরোসেন্ট ভেস্ট পরে প্রস্তুত রয়েছেন যাতে বিক্ষোভকারীরা সীমান্ত বেড়ার কাছে যেতে না পারে। এ ছাড়া ক্লিনিকের সামনে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

কিছু বিক্ষোভকারী সীমান্ত বেড়ার দিকে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালালে ইসরায়েলি সেনারা টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

হামাস পরিচালিত সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, পূর্ব গাজা সিটিতে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালালে আদহাম আমারা নামক ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর আহত হয়। পরে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ সময় অন্তত ৩৩ বিক্ষোভাকারী আহত হয়।

অন্যদিকে, অবরুদ্ধ পশ্চিমতীর, রামাল্লা, আল-বিরেহ ও নাবলুসসহ অন্যান্য স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব স্থানে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এতে বেশ কিছু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

খবরে বলা হয়েছে, গত বছরের মার্চ মাসে ফিলিস্তিনিরা যখন ওই বাফার জোনে নিয়মিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে শুরু করেন, তার পর থেকে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, ওই সব হামলায় ৪০ জন শিশু নিহত এবং তিন হাজারের বেশি আহত হয়ে হাসপাতাল পর্যন্ত গেছে। এর মধ্যে অনেকেই আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছে।