advertisement
আপনি দেখছেন

বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন। এবার অভিশংসনের তদন্তের শুনানিতে ডাক পেয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। আগামী ৪ ডিসেম্বর অভিশংসন সংক্রান্ত এক শুনানিতে তাকে চিঠি দিয়ে ‘আমন্ত্রণ’ জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস। এক বিবৃতিতে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের জুডিশিয়ারি কমিটির ডেমোক্র্যাট দলীয় চেয়ারম্যান জেরল্ড ন্যাডলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

donald trump 01মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিবৃতিতে বলা হয়, ওই শুনানিতে ট্রাম্পকে অবশ্যই হাজির হতে হবে; না হয় এ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ করা থেকে তাকে বিরত থাকতে হবে।

ট্রাম্পকে দেয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংবিধানিকভাবে নিজের অভিশংসনে ব্যাপারে আলোচনার জন্য শুনানিতে উপস্থিত হওয়া আপনার জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ। শুনানিতে উপস্থিত হলে সাক্ষীদেরকে প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।

এর আগে ফক্স টেলিভিশনে দেয়া এক স্বাক্ষাতকারে তার অভিশংসনের তদন্তে যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। অভিযুক্তদের মধ্যে যারা আছেন তারা হলেন, ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা ডেভিড হোমস, ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত গর্ডন সোডল্যান্ড এবং ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি গিলিয়ানি।

ফক্স টেলিভিশনে তদন্ত কমিটির কাছে তাদের বিচারও দাবি করেন ট্রাম্প।

জেরল্ড ন্যাডলার বলেন, প্রেসিডেন্টের জন্য দুটি রাস্তাই খোলা। তিনি নিজে অভিশংসন শুনানিতে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। অথবা এ প্রক্রিয়ার ব্যাপারে অভিযোগ করা বন্ধ করতে পারেন।

তবে ন্যাডলার আশা করছেন, তদন্তে অংশ নেয়াকেই বেছে নেবেন ট্রাম্প; সেটা নিজের সরাসরি উপস্থিতিতেই হোক কিংবা প্রতিনিধির মাধ্যমেই হোক। এর আগে অন্য প্রেসিডেন্টরাও অভিশংসনের মুখে একই কাজ করেছেন।

jerrold nadlerকংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের জুডিশিয়ারি কমিটির ডেমোক্র্যাট দলীয় চেয়ারম্যান জেরল্ড ন্যাডলার

শুনানিতে অংশ নিতে ট্রাম্পকে ডিসেম্বরের ১ তারিখ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এর আলোকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে প্রতিনিধি পরিষদের জুডিশিয়ারি কমিটি।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের সাথে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেন্সকির গোপন ফোনালাপ ফাঁস হলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় ওঠে। ওই ফোনালাপে মার্কিন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে চাপ দেন ট্রাম্প। ওই ফোনালাপের ওপর ভিত্তি করে গোয়েন্দা সংস্থার এক সদস্য ট্রাম্পকে অভিশংসন করার আনুষ্ঠানিক দাবি তোলেন। এর প্রেক্ষিতে তাকে প্রেসিডেন্সি থেকে সরাতে তদন্ত শুরু করে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তে গত দুই সপ্তাহে মোট ১২ জন প্রত্যক্ষদর্শী প্রকাশ্য শুনানিতে অংশ নিলেও এ তদন্তকে ‘ন্যাক্কারজনক’ দাবি করে ট্রাম্প বলছেন, তাকে অভিশংসনের ক্ষমতা ডেমোক্র্যাটদের নেই। এর মাঝেই এ নিয়ে শুনানিতে আমন্ত্রণ পেলেন তিনি।

এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, এই তদন্তের ফলে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি শুধু হুমকির মুখেই পড়েনি; ২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে করতে পারবেন কিনা তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।