advertisement
আপনি দেখছেন

বিরোধী দলগুলোর তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত মুসলিমবিরোধী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি ভারতের লোকসভায় পাস করিয়ে নিয়েছে বিজেপি সরকার। সোমবার রাতে পাস হওয়া বিলটির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে দেশটির আসাম, ত্রিপুরাসহ উত্তরপূর্বের বেশ কয়েকটি রাজ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক সেনা।

nrc asam protest3মুসলিমবিরোধী নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

বিলটির প্রতিবাদে আসামের গোয়াহাটিসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন ধর্মঘটের ডাক দেয়। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘটের কারণে বাতিল করা হয়েছে ট্রেন যোগাযোগ। বন্ধ করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বাজার। মূল রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।

বুধবার সকাল থেকেই আসাম ও ত্রিপুরার বিক্ষোভকারীরা রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও রেল লাইন অবরোধ করে রাখে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভের তেজও বাড়তে শুরু করে। নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে তারা ইট, পাটকেল, পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে।

দেশটির গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে আসাম ও ত্রিপুরায় ৫ হাজার সেনা পাঠানো হয়েছে। তারা স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে এ কাজে সর্বাত্ত্বক সহযোগিতা করবে।

জানা যায়, উত্তর ত্রিপুরায় বেশ কিছু দোকানে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে পুলিশ। এ সময় শতাধিক অবরোধকারীকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ। এছাড়া পুলিশের লাঠিতে আহত হয়েছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী।

এদিকে বিতর্কিত এ বিলটি আজ ভারতের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পেশ করা হয়েছে। এখান থেকে পাশ করিয়ে নিতে পারলেই বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে পাড়ি জমানো অমুসলিম শরণার্থীদের দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়া সহজ হয়ে যাবে।

nrc asam protest1মুসলিমবিরোধী নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

প্রসঙ্গত, ১৯৫৫ সালে পাশ হওয়া নাগরিকত্ব আইনে উল্লেখ আছে, অন্য দেশ থেকে ভারতে আসা কেউ যদি নাগরিকত্ব চায় সেক্ষেত্রে তাকে কমপক্ষে ১১ বছর এ দেশে বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ ও নথিপত্র উপস্থাপন করতে হবে।

কিন্তু নতুন করে সংশোধন হওয়া এ বিলটিতে বলা হয়েছে, ভারতে টানা ৫ বছর ধরে বসবাস করা অমুসলিমরা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য অবেদন করতে পারবেন।

এদিকে বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, যদি সব সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়, তাহলে সেটা মেনে নেয়া যায়। কিন্তু যদি ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয়, তাহলে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হবে।