advertisement
আপনি দেখছেন

মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত জাতিগত দমনাভিযানে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে মিয়ানমার সরকারের গঠিত ‘স্বাধীন কমিশন’ বা দ্য কমিশন অব ইনকোয়ারি (আইসিওই)। তবে সেখানে কোনো ধরনের গণহত্যার আলামত পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

mayanmer geno pic

আইসিওই’র দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট এবং ৫ সেপ্টেম্বর রাখাইনে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, তাতে আইন ভঙ্গ করা হয়েছে। ওই অভিযানে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তবে গণহত্যার মতো অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি এমন সময়ে আসল যখন জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত গণহত্যার দায়ে দেশটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেছে।

২০১৮ সালের জুনে ফিলিপাইনের সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোজারিও জি মানালোর নেতৃত্বে ইনডিপেনডেন্ট কমিশন অব ইনকোয়ারি (আইসিওই) নামে কমিশন গঠন করে দেশটির বর্তমান সরকার। কমিটির আরও তিন সদস্য হলেন, উ মায়া থেইন (মিয়ানমারের সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান), কেনজো ওশীমা (জাপানি কূটনীতিক) এবং প্রফেসর ড: অং তুন থেট (ইউনিসেফের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা)। তবে এই কমিশন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ও সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ রয়েছে।

কমিটির সদস্যরা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য শক্তি ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধ করেছে। একই সঙ্গে নিরপরাধ গ্রামবাসীকে হত্যা করে তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে।’

এরকম ঘটনা তুলে ধরলেও কমিটি বলছে, গণহত্যার মতো অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

suci pettision hege

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের অনেক আগে থেকেই নানাভাবে নির্যাতন করে আসছে। তাদের নির্যাতনের মাত্রা ছাড়িয়ে যায় ২০১৭ সালের আগস্টে। ওই সময় দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় ৮ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। যাদের সিংহভাগই মুসলমান।

আইসিওই’র এই প্রতিবেদনকে ‘ধবলধোলাই’ বলে মন্তব্য করেছেন গ্লোবাল জাস্টিস সেন্টারের প্রেসিডেন্ট আকিলা রাধাকৃষ্ণান। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা গণহত্যার দায় এড়াতে এই কমিটির প্রতিবেদন মিয়ানমারের আরেকটি দেশজ ধবলধোলাই।’

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তদন্ত করে দেখেছে, রাখাইনে রীতিমতো গণহত্যা চালিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। অন্যদিকে এই আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করছে মিয়ানমার।