advertisement
আপনি দেখছেন

চীনে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ‘করোনাভাইরাসে’ সংক্রমিত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। সংক্রমণের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬,০০০। আজ বুধবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির ন্যাশনাল হেল্থ কমিশন। চীন ছাড়াও বিশ্বের ১৮টি দেশে ৭৮ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

corona virus in china

গ্লোবাল নিউজ জানিয়েছে, চীনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে ২৫ জনই মারা গেছেন হুবেই প্রদেশে। আজ নতুন করে ১ হাজার ৪৫৯ কেস নেয়া হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ১ হাজার ৭৭১টি। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে ৫ হাজার ৯৭৪টি কেস নেয়া হলো।

তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, বেসরকারি হিসেবে করোনায় সংক্রমিতের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে কয়েকদিন আগেই। উহানের একজন নার্সও জানিয়েছেন, সরকারিভাবে আক্রান্তের যে সংখ্যা বলা হচ্ছে, আসল সংখ্যা আরো কয়েক গুণ বেশি।

রহস্যজনক এ ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না, বরং আক্রান্তের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। একজন বিশেষজ্ঞের বরাত দিয়ে চীনা গণমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ আকার ধারণ করতে পারে।

তবে ভাইরাসটি থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন দেশের গবেষকদের সমন্বয়ে প্রতিষেধক তৈরির চেষ্টাও চলছে। এ ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছেন তা ইতিবাচক ফলাফল দিয়েছে বলে দাবি চীনা গবেষকদের। প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের গবেষকরাও।

corona virus in china 2

চীন ছাড়াও থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নেপাল, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও তাইওয়ানে এ ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান তাদের নাগরিকদের চীন থেকে সরিয়ে নেয়া শুরু করেছে। অন্যান্য দেশও ভাইরাসটি ঠেকাতে চীন থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা ছাড়াও নানা ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (এনএইচসি) মঙ্গলবার জানায়, মৃতদের কেস স্ট্যাডিতে দেখা গেছে, নতুন ভাইরাসের ইনকিউবেশন সময়সীমা গড়ে তিন থেকে সাত দিন ছিল, সবচেয়ে দীর্ঘকাল ১৪ দিনের বেশি হয় না। এ ভাইরাস স্ট্রেন গুরুতর তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সিন্ড্রোমের (সারস) মতো ৮৫ শতাংশ ছিল।

এনএইচসি আরো জানিয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ক্ষমতা ক্রমেই প্রবল হয়ে উঠছে। এমনকি সংক্রমিত হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই তা অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিশুদের সংক্রামিত হওয়ার লক্ষণগুলো খুবই হালকা ধরনের।

গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম এই ভাইরাসের দেখা মেলে। একটি সামুদ্রিক বাজার থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনের বিভিন্ন শহরে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে উহানের সঙ্গে গণপরিবহন, বিমান চলাচল ও রেল সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্যান্য শহরেও ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

প্রাণঘাতী ভাইরাসটি এমন এক সময় ছড়িয়ে পড়ল যখন চীনা পঞ্জিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চান্দ্রবর্ষ উদযাপনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। এতে চন্দ্রবর্ষের অনেক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।