advertisement
আপনি দেখছেন

চীনে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আরো ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির স্বাস্থ্য কমিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

covid 19 more 98 dies china

চীনা গণমাধ্যম বলছে, সোমবার নতুন করে মারা যাওয়া ৯৮ জনের মধ্যে অন্তত ৯৩ জন হুবেই প্রদেশের। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১৮৬৮ জন। যার মধ্যে বেশিরভাগই হুবেই প্রদেশের। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৪৩৬ জনে।

ভয়াবহ এই ভাইরাসে চীনের বাইরে হংকং, তাইওয়ান, জাপান, ফিলিপাইন এবং ফ্রান্সে একজন করে মারা গেছে।

চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, হুবেই প্রদেশে ৪১ হাজার ৯৯৫ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যার মধ্যে ১ হাজার ১৮৩ জন গুরুতর অসুস্থ। আর ৮৬৬২ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথমবারের মতো ধরা পড়ে নভেল করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত এটি বিশ্বের অন্তত ২৮টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনের হুবেই প্রদেশের উহানের একটি সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয় বলে মনে করা হয়।

ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নতুন কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে হুবেই কর্তৃপক্ষ। প্রদেশটির রাস্তায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব ধরনের ব্যক্তিগত যান চলাচল। চীনে ইতোমধ্যেই করোনা ভাইরাসের উপসর্গ গোপন করাকে ফৌজদারি অরপাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করলে তার মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া করোনার বিস্তার ঠেকাতে হুবেই প্রদেশে কাগজে নোট পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি পাওয়া যায়নি। তবে সিঙ্গাপুরে পাঁচ বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

মাস্ক কী কার্যকরভাবে ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে এবং এটি কতবার পরিবর্তন করতে হয়?

মাস্ক পরলেই যে ভাইরাস প্রতিরোধ করা যায়, এমনটা খুব কমই হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং আশপাশের জায়গাগুলো পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এক্ষেত্রে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং অবশ্যই মুখের কাছে হাত আনার আগে সেটি ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। আর এ অভ্যাস মাস্কের চেয়ে বেশি কার্যকর।

ভাইরাসের জন্য ইনকিউবেশন সময়কাল বা সুপ্তিকাল কত?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে এর লক্ষণগুলি প্রকাশের আগ পর্যন্ত সময়ের পরিধি ২ থেকে ১০ দিনের মতো হয়ে থাকে। তাই ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা সুপ্তিকাল সম্পর্কে জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওই সময়ের মধ্যে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এবং নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে সময় পান।

অর্থাৎ চিকিৎসকরা আরো কার্যকর কোয়ারান্টিন ব্যবস্থা চালু করতে পারেন। যেমন- কেউ যদি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে তাহলে তাদের আলাদা করে রাখা যাবে। যেন তাদের মধ্যে ভাইরাসটি সনাক্ত হলেও তা অন্য কারো মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

ভাইরাসে যারা আক্রান্ত হওয়ার পর সেরে উঠছেন, তারা কি পুরোপুরি সুস্থ হতে পেরেছেন?

হ্যাঁ, যারা ভাইরাসটির সংস্পর্শে এসেছেন তাদের মধ্যে অনেকেই কেবল হালকা কিছু লক্ষণ অনুভব করেছেন। এর মধ্যে জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে। বেশিরভাগই সম্পূর্ণ সেরে উঠছেন। তবে এটি বয়স্ক ব্যক্তি বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভাইরাসের হালকা লক্ষণ দেখা দেয়ার পর পুরোপুরি সেরে উঠতে এক সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে।

এই শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ করার জন্য কী টিকা দেয়া সম্ভব?

এখনো এমন কোনো টিকা আবিষ্কার করা যায়নি। যা দিয়ে কোভিড-১৯ থেকে মানুষকে রক্ষা করা যেতে পারে। তবে গবেষকরা এর প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের টিকা পেতে দেড় বছর সময় লাগবে।

sheikh mujib 2020