advertisement
আপনি দেখছেন

চীনে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ ভাইরাসের (করোনাভাইরাস) কারণে দেশটিতে প্যারাসিটামল ওষুধের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশটি থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ওষুধ রপ্তানিও বন্ধ। এমতাবস্থায় চাহিদার সঙ্গে জোগানের ঘাটতি মেটাতে ভারতের বাজারে এ ওষুধের দাম এক লাফে বেড়েছে ৪০ শতাংশ।

paracitamol drugs image

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জেনেরিক ওষুধের সবচেয়ে বেশি জোগানদাতাদের মধ্যে অন্যতম হলো ভারত এবং চীন। এর মধ্যে বেইজিংয়ের দখলে রয়েছে ৮০ শতাংশ ও নয়াদিল্লি দখলে রয়েছে ১২ শতাংশ। কিন্তু চীন থেকে প্যারারিটামল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় বাজারে এ ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে ভারতের বাজারে এ ওষুধের দাম এক লাফে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু প্যারাসিটামল নয়, ভারতের বাজারে অ্যাজিথ্রোমাইসিনের দামও ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকরা বিভিন্ন ব্যাক্টেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় এই ওষুধটি অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে রোগীদের প্রেসক্রাইব করে থাকেন। আর প্যারাসিটামল দেওয়া হয় সাধারণত ব্যথা-বেদনানাশক হিসেবে।

paracitamol drugs image 2

জোগানের ঘাটতির কথা স্বীকার করে ভারতের ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি জাইডাস ক্যাডিলার চেয়ারম্যান পঙ্কজ আর পটেল বলেন, আগামী মাসের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে, বাজারে বেশ কিছু ওষুধের চরম ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এমনকি এপ্রিলে অনেক ওষুধ বাজারে পাওয়াই যাবে না।

উল্লেখ্য, চীনে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১ হাজার ৮৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমিত হয়েছেন আরো ৭২ হাজার ৩৫৫ জন। চীনের বাইরেও বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। সেসব দেশে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ছয় জন।

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে দেশটির সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সীমান্ত দিয়েও হচ্ছে না কোনো ধরনের আমদানি বা রপ্তানি। ফলে ওষুধের বাজারে দেখা দিয়েছে ঘাটতি।