advertisement
আপনি দেখছেন

লন্ডন সেন্ট্রাল মসজিদে দুর্বৃত্তের ছুরির আঘাতে আহত হওয়া সেই মুয়াজ্জিন একদিন পরই মসজিদে নামাজ পড়তে গেলেন। পাশাপাশি তার ওপর হামলা করা দুর্বৃত্তকেও ক্ষমা করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

london mosqu muazzin

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাফাত মাগলাদ নামের এই মুয়াজ্জিন বলেন, একজন মুসলিম হিসেবে নামাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যতকিছুই হোক এটি হাতছাড়া করা যাবে না। নয় তো আরো বড় কিছু হাতছাড়া হয়ে যাবে। তাই মসজিদে নামাজ পড়তে আসা।

তিনি বলেন, ‘হামলার মুহূর্তে মনে হলো- কেউ যেন আমাকে ইট দিয়ে আঘাত করেছে। ঘাড় বেয়ে রক্ত পড়াটুকুই শুধু অনুভব করতে পারলাম। এরপরই মুসল্লিরা আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে ঘটে গেল।’

লন্ডন ফেইথ ফোরামের পরিচালক মুস্তফা ফিল্ড বলেন, নামাজরত (ইকামতের আযানের সময়) অবস্থায় মুয়াজ্জিনের ঘাড়ের কাছে ছুরিকাঘাত করে ওই যুবক। সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লিরা হামলাকারীকে ধরে ফেলে। ফলে প্রাণে বেঁচে যান ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মুয়াজ্জিন।

এদিকে, এ ঘটনার পর থেকে মসজিদ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মসজিদে নামাজ পড়তে এসে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন শহরটির মেয়র সাদিক খান।

মসজিদের ভেতর হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের জন্য সব সময় তার শুভকামনা থাকবে।

london central mosque stabbing

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার লন্ডন সেন্ট্রাল মসজিদে আসরের নামাজ পড়ার সময় হামলার শিকার হন রাফাত মাগলাদ (৭০) নামের এই মুয়াজ্জিন। মুয়াজ্জিনকে আঘাত করার জন্য আযান দেয়ার সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে ঘাতক। রাফাত যখন আযান দিতে যান ঠিক তখনই তাকে পেছন থেকে ডান কাঁধে ছুরি মারা হয়।

মসজিদে হট্টগোলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ এসে দেখে আহত মুয়াজ্জিন মাটিতে পড়ে আছেন। হাসপাতালে নেয়ার আগে সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, মসজিদ থেকে এ হামলার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। এটি কোনো জঙ্গি হামলার ঘটনা না বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত করে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

sheikh mujib 2020