advertisement
আপনি দেখছেন

ভারতের দক্ষিণ দিল্লির নিজামুদ্দিন মসজিদে তাবলিগ জামাতের মারকাজে অংশ নেওয়াদের মধ্যে অনেককেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় অনেক ভারতীয় তাবলিগ তথা মুসলমানদের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এটিকে ‘তাবলিগ ভাইরাস’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

omar abdullah kashmir tablig mosqueজম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ

এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেছেন, হ্যাশট্যাগ দিয়ে যারা ‘তাবলিগ ভাইরাস’ টুইট করছেন সেটা দেশের পক্ষে করোনা ভাইরাসের থেকে ‘আরো বিপজ্জনক’ হতে পারে। কেননা একটি প্রাকৃতিক ভাইরাস একটা সময়ের পর ধ্বংস হয়ে যায়, কিন্তু এই ধরনের বিদ্বেষের বড় ছাপ পড়ে সমাজে।’

ওমর আবদুল্লাহ টুইট করে বলেন, ‘এখন #তাবলিগ জামাত কারও কারও কাছে সব জায়গায় মুসলিমদের বদনাম করার জন্য একটি বড়সড় অজুহাত হয়ে উঠবে, যেন আমরাই #কোভিড-১৯ তৈরি করেছি এবং বিশ্বজুড়ে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিচ্ছি।’

পাশাপাশি তাবলিগ জামাতের সমালোচনাও করেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওই নেতা। তিনি লেখেন, ‘প্রথম দর্শনে যদিও এটাই মনে হচ্ছে যে, এই ঘটনা তাবলিগ জামাতের দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপেরই ফল। তবে এটাও ঠিক যে, এই ধরনের সমাবেশ তাদের কাছে নতুন কিছু নয়। তবে ভারতের বেশিরভাগ মুসলমানই কিন্তু সরকারি নির্দেশনাগুলো মানছেন এবং অন্যদের সেই নির্দেশ মেনে চলারই পরামর্শ দিচ্ছেন।’

উল্লেখ্য, দিল্লির নিজামুদ্দিন মসজিদে গত ১ থেকে ১৫ মার্চ তাবলিগ মারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার লোক অংশ নেয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই সমাবেশ থেকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারত সরকারের বরাত দিয়ে এনডিটিভি বলছে, সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ওই সমাবেশে অংশ নেওয়া ১২৮ জনের শরীরে ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। এ ছাড়া সমাবেশে যোগদানকারীদের মধ্যে আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীয় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নির্দেশে সংশ্লিষ্টরা মারকাজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে তবে এক বিবৃতিতে মার্কাজ কর্তৃপক্ষ আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত ২২ মার্চ ‘জনতা কারফিউ’ ঘোষণা করার পর অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়।

এনডিটিভি বলছে, ২১ মার্চ পর্যন্ত সেখানে মোট ১ হাজার ৭৪৬ জন মানুষ ছিলেন। যার মধ্যে ২১৬ জন বিদেশিও ছিলেন।

মার্কিন গণনকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, গোটা ভারতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৯০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ৪৫ জন। এ ছাড়া চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে ১৪৮ জন।