advertisement
আপনি দেখছেন

চীনের উহান এবং ইতালির লোম্বার্দিয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যেন এবার মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে সেখানে ৬২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে আজ শুক্রবার পর্যন্ত শুধু নিউইয়র্কেই ২ হাজার ৯৯৫ জন মানুষ মারা গেছেন। 

newyork city empty roadলকডাউনে খালি নিউইয়র্কের রাস্তা

দ্য গার্ডিয়ান বলছে,  আক্রান্তের দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে নিউইয়র্ক রাজ্য। স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে আরো অনেক লোকের মৃত্যু হতে পারে। ফলে নিউইয়র্ক যেন করোনার পরবর্তী মৃত্যুপুরীতে রূপ নিয়েছে।

জানা যায়, এখন পর্যন্ত নিউইয়র্ক নগরীতে সংক্রমিত হয়েছেন ১ লাখ দুই হাজার ৮৬৩ জন।করোনাভাইরাসের কারণে এক শহরে এত বেশি সংখ্যক আক্রান্ত মানুষ এর আগে কোথাও দেখা যায়নি।

রাজ্যটিতে এত সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় দেখা দিয়েছে মেডিকেল সরঞ্জামাদির সংকট। নতুন আক্রান্তদের ভেন্টিলেটর সরবরাহ করতেও ব্যর্থ হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

গত সপ্তাহে নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও বাধ্য হয়ে জনগণের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এখানে মেডিকেল সরঞ্জাম খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। আমাদের খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। যে পরিমাণ সরঞ্জাম আমাদের কাছে মজুদ আছে তাতে আগামী রোববার পর্যন্ত কোনো রকমে চালানো যাবে। বিশেষ করে, ভ্যান্টিলেটরের চাহিদা খুব বেশি দেখা দিয়েছে। করোনা আক্রান্ত রোগীকে এই মেশিনটি ছাড়া বাঁচিয়ে রাখা খুব বেশি কষ্টকর।

bill de blasioনিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও

তিনি আরো বলেন, আমরা একটি যুদ্ধে আছি। সেই যুদ্ধে আমাদের প্রধান অস্ত্র ভ্যান্টিলেটর। এই মেশিন একজন রোগীর কাছে জীবন-মৃত্যুর সমান। আমরা সবাই জানি, ভাইরাসটির কারণে শ্বাসনালীতে প্রচণ্ড প্রদাহ হয়। সে প্রদাহ কমাতে ভ্যান্টিলেটরই সবচেয়ে কার্যকরী। এই মেশিনটির সাহায্যে রোগী তার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত রেকর্ড ২ লাখ ৫৭ হাজার ৩৭৯ জন মানুষের দেহে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী যোগ হয়েছে ১২ হাজার ৫০২ জন। ভাইরাসটির কারণে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ছয় হাজার ৫৫৮ জনের।