advertisement
আপনি দেখছেন

গত বছরের শেষ দিকে চীনের উহানে নিজের অস্তিত্বের জানান দেয় মরণঘাতী করোনাভাইরাস। এর পর আস্তে আস্তে গোটা চীন তো বটেই, সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দুই শতাধিক দেশে থাবা বিস্তার করেছে কোভিড-১৯। দিন যত বাড়ছে ততই মানুষ এর সংক্রমণের শিকার হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২ লাখ ৩ হাজারের বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে প্রায় ৬৫ হাজার। এভাবে চলতে চলতে পুরো মানবসভ্যতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস।

vaccine virus world scientistsকরোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে দেশে দেশে চলছে গবেষণা। ছবি- ভয়েস অব আমেরিকা।

তাই তো এর ছোবল থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী, গবেষক এবং নানা সংস্থা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আজ পর্যন্ত এর কার্যকর কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ আবিষ্কারে সক্ষম হননি তারা। তবে এ নিয়ে যে একেবারে কিছু হয়নি সেটাও বলা যাবে না। কারণ অনেক দেশের বিজ্ঞানীরাই ল্যাবে ও ইঁদুরের শরীরে ওষুধ প্রয়োগ করে ভাইরাসটি ধ্বংসের প্রমাণ পেয়েছেন। পাশাপাশি কিছু কিছু বিজ্ঞানী মানুষের শরীরেও ওষুধের পরীক্ষা শুরু করেছেন। কিন্তু সেগুলো শেষ হতে অনেক সময় লাগবে। তাই মানবসভ্যতাকে বাঁচাতে বিকল্প উপায়ও চিন্তা করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই বলেছে, করোনাভাইরাসের টিকা আসতে দেড় বছরের মতো সময় লাগবে। সর্বশেষ সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশে তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কমপক্ষে ২০টি ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের কাজ চলছে। এর মধ্যে সিয়াটলে ইতোমধ্যে একটির ‘হিউম্যান ট্রায়াল’ বা মানুষের শরীরে পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

এই মুহূর্তে করোনাভাইরাসের তাণ্ডব চলছে যুক্তরাষ্ট্রে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে মার্কিন বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, তারা ইতোমধ্যে কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম। ভ্যাকসিনটির বাস্তব উৎপাদন শুরুর জন্য মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

vaccine virus world scientists researchকরোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে দেশে দেশে চলছে গবেষণা। ছবি- নিউইয়র্ক টাইমস।

ব্রিটেনের ইমপেরিয়াল কলেজ অব লন্ডনের গবেষকরা এপ্রিলের শুরুতে দাবি করেন, তারা একটি ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছেন। যা মানুষের শরীরে প্রয়োগের উপযোগী করতে পারলে নতুন এ ভাইরাসটি কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। অল্প সময়ের মধ্যেই ভ্যাকসিনটির হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করা হবে বলেও জানান তারা।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরাও একটি ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের দাবি করেছেন। তারা বলছেন, ইতোমধ্যে তাদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন ইঁদুরের শরীরে প্রয়োগ করে সফলতা পাওয়া গেছে। ভ্যাকসিনটি শরীরে প্রয়োগের পর থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ভাইরাসটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় বলে দাবি তাদের।

তবে কিছু কিছু মার্কিন বিজ্ঞানী বলছেন, অন্তত দেড় বছরের আগে ভ্যাকসিন বাজারে ছাড়ার উপযোগী করা যাবে না।

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং দেশটির করোনা বিষয়ক জরুরি সহায়তা টিমের সমন্বয়ক অ্যান্টনি ফুচিও বলছেন একই কথা। তার মতে, করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক সাধারণ মানুষের হাতে আসতে অন্তত দেড় বছর সময় লাগবে। তার আগ পর্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন ও সাধারণ ওষুধেই যতটা পারা যায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।

তবে সবচেয়ে বেশি আশার কথা শুনিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তাদের দাবি, প্রচলিত পরজীবী-বিরোধী ওষুধ ইভারমেকটিন প্রয়োগ করে তারা সফলতা পেয়েছেন। এর মাত্র একটি ডোজেই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ধ্বংস হচ্ছে করোনাভাইরাস। তবে সেটা ল্যাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন। পর্যাপ্ত অর্থ পেলে তারা এখন একটি সমন্বয় তৈরি করতে চান যা মানব শরীরে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।