advertisement
আপনি দেখছেন

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে দিনে এক লাখ সম্ভাব্য আক্রান্ত ব্যক্তিকে পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। আরো বেশি লোকের টেস্ট কেনো করা যাচ্ছে না, এই প্রশ্ন তুলে যুক্তরাজ্য সরকারকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলেছেন সে দেশের বিশেষজ্ঞগণ। এর মধ্যেই দেশটি জানালো যে, তারা প্রতিদিন এক লাখ লোকের টেস্ট করার মতো অবস্থায় যাওয়ার চেষ্টা করছে।

uk aims to increase coronavirus test to 1 lakh a day

কিন্তু খুব দ্রুত এটা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিবিসি। যুক্তরাজ্য সরকারের এই লক্ষ্য পূরণ হতে এপ্রিল মাসের পুরোটা সময় লেগে যেতে পারে। এখন পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ দশ হাজার লোকের টেস্ট করতে পারছে যুক্তরাজ্য। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে কিভাবে তারা প্রতিদিন আরো ৯০ হাজার লোকের টেস্ট করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কী কারণে যুক্তরাজ্য এখনো আরো বেশি লোকের টেস্ট করতে পারছে না, তা বিশ্লেষণ করে সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি অনেকগুলো ছোট ছোট বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন টেস্ট করার জন্য সক্ষম ল্যাবের সংখ্যা, গুণগত মানসম্পন্ন কিট ও যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করাও এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্ভাব্য আক্রান্তের মুখের লালা ও নাকের সোয়াব সংগ্রহ করে তা যথাযথ পদ্ধতিতে ল্যাবে পরিবহন করার কাজ যথাযথভাবে করার বিষয়টিও সামনে আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন এক লাখের লোকের পরীক্ষা করার লক্ষ্য পূরণ করা সহজ হবে না।

জানা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেই করোনা ভাইরাসের টেস্ট করা যাচ্ছে। যার সাথে আছে এনএইচএসের কয়েকটি ল্যাবও। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা বেসরকারি খাতের সক্ষম ল্যাবগুলোকে কাজে লাগানোর চিন্তাও করছে।

যুক্তরাজ্যে ভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য বিখ্যাত ডক্টর রুপার্ট বিয়ালি মনে করেন, প্রতিদিন এক লাখ লোকের পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যুক্তরাজ্যের পক্ষে সম্ভব। তিনি বলেন, লক্ষ্য পূরণ করার জন্য এনএইচএসের আরো বেশি সংখ্যক কর্মীকে কাজে লাগাতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতো বেশি সম্ভব লোকে টেস্ট করা যাবে ততো বেশি আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাবে। এতে তাদেরকে আইসোলেশনে রাখাও সহজ হবে এবং এই কাজ যতো দ্রুত করা যাবে, করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়াকে ততো দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

ওয়ার্ল্ড মিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, যুক্তরাজ্যে এপ্রিলের পাঁচ তারিখ পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি লোককে করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে চার হাজারের বেশি লোক মারা গেছেন এবং গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন প্রায় ১৬০০ লোক। সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে এবং মারা গেছেন ৬৫ হাজারের বেশি লোক।