advertisement
আপনি দেখছেন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মিরে সব রকম ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ করেছে। যার কারণে সেখানকার মুসলিমরা মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে পারছেন না। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা ঠিকই তীর্থযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা সমালোচনার। এ যেন একই ভূ-খণ্ডে দুই নীতি।

hindu pilgrims amarnath caveকাশ্মিরে তীর্থযাত্রায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

দ্য নিউ আরবের বরাতে জানা যায়, সরকারি এক বিজ্ঞপ্তিতে জম্মু ও কাশ্মিরে সব রকম ধর্মীয় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সনাতন সম্প্রদায়ের তীর্থযাত্রায় সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।

সরকারি এক নির্দেশনায় বলা হয়, কাশ্মিরের ৩ হাজার ৮৮৮ মিটার দক্ষিণে অবস্থিত আম্রানাথ গুহায় অবস্থিত মাজার দর্শনে তীর্থযাত্রায় অংশ নিতে পারবেন সনাতন ধর্মের মানুষ। যারা অংশ নেবে তাদের ওপর লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হবে।

ওই গুহায় একটি শিব লিঙ্গ রাখা আছে, যা বিশ্বের সব সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে সমাদৃত।

hindu pilgrims amarnath cave01কাশ্মিরে তীর্থযাত্রায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

সেই গুহার উদ্দেশ্যে তীর্থযাত্রা শুরুর আগে স্থানীয় প্রশাসন থেকে বেশ কিছু নীতিমালাও দেয়া হয়েছে। তারা বলেছে, প্রতিদিন ৫০০ জনের বেশি মানুষ তীর্থযাত্রায় অংশ নিতে পারবে না। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এই কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে।

জানা যায়, এই তীর্থযাত্রা আগে ৪২ দিন ধরে হতো, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তা কমিয়ে ১৫ দিনে আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে এই তীর্থযাত্রায় অংশ নিতে আসা মানুষের মাধ্যমে করোনাভাইরাস নতুনভাবে ছড়িয়ে পড়বে। ভারতে এখনো সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে বড় একটি গণজমায়েত সেই সংক্রমণের হারকে আরো ত্বরান্বিত করতে পারে।

স্থানীয় এক চিকিৎসক বলেন, কাশ্মিরে ক্রমশ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এখন পর্যন্ত ৮ হাজার মানুষকে শনাক্ত করা হয়েছে। গত ৩ দিনে মারা গেছে ২০ জন। আমি স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছি যে, এই সংকট আমরা মোকাবেলা করতে পারছি না।

দ্য নিউ আরব বলছে, এমন পরিস্থিতির মধ্যে সেখানে তীর্থযাত্রার অনুমতি দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন হুমকিতে ফেলেছে ভারত সরকার।

sheikh mujib 2020