advertisement
আপনি দেখছেন

সৌদি আরবের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাদ আল-জাবরিকে হত্যার উদ্দেশ্যে কানাডায় একটি হত্যাকারী দল পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দায়ের করা নথিপত্রে এমন কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

shad al jabir salmanসাদ আল-জাবরি ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

সেখানে বলা হয়, তুরস্কে সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার পরপরই সাদ আল-জাবরিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সে উদ্দেশ্যে টরেন্টো পিয়ারসন বিমানবন্দর দিয়ে হত্যাকারীরা কানাডায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের দেখে কানাডিয়ান সীমান্ত রক্ষীদের সন্দেহ হলে বাধা দেওয়া হয়। ফলে হত্যার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়।

নথিপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সাদ আল-জাবরির মুখ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেন সৌদি যুবরাজ। সে জন্য ‘টাইগার স্কোয়াড’ নামের পেশাদার হত্যাকারীদের একটি দল কানাডায় পাঠান তিনি। ২০১৮ সালে ইস্তান্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যায়ও টাইগার স্কোয়াডের সদস্যরা যুক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে সাদ আল-জাবরি অভিযোগ করে বলেন, তার কাছে থাকা সংবেদনশীল তথ্যের কারণে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন যুবরাজ। এমনকি একাধিকবার তাকে সৌদি আরবে ফেরানোর চেষ্টা করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে মেসেজও পাঠিয়েছেন। একটি মেসেজের বক্তব্য ছিল এমন, ‘আমরা নিশ্চিতভাবে তোমার কাছে পৌঁছাবো।’

bin salman saudi prince 1যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান 

৬১ বছর বয়সী সাদ আল-জাবরি সৌদি আরব সরকারের একজন অভিজ্ঞ সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। নির্বাসিত হওয়ার পর থেকে গত তিন বছর ধরে তিনি কানাডায় বসবাস করছেন। যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-সিক্স এবং পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সৌদি আরবের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিলেন এই কূটনীতিক।

বিবিসির খবরে বলা হয়, সাদ আল-জাবরি বহু বছর সৌদি আরবের প্রিন্স মোহাম্মদ বিন-নায়েফের ডান হাত ছিলেন। আল কায়েদাকে পরাজিত করার পেছনে মোহাম্মদ বিন-নায়েফের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট করা মৃদুভাষী সাদ আল-জাবরি এক পর্যায়ে মন্ত্রী হন। পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ে মেজর জেনারেলের পদমর্যাদা লাভ করেন। কিন্তু ২০১৫ সালে বাদশাহ আবদুল্লাহ মারা যাওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তারপর বাদশাহ আবদুল্লাহর সৎ ভাই সালমান বিন আবদুল আজিজ বাদশাহ হন এবং তার ছেলে সালমানকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

২০১৭ সালে বাদশাহ সালমানের সম্মতিতে তার পুত্র বিন সালমান ক্ষমতার উত্তরাধিকার মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সরিয়ে নিজে হয়ে যান যুবরাজ। অর্থাৎ রাজ ক্ষমতার পরবর্তী উত্তরাধিকারী। সে সময় রাজপুত্র মোহাম্মদ বিন নায়েফকে কারাগারে প্রেরণ করা হয় এবং তার সম্পদ জব্দ ও তার সাথে কাজ করা ব্যক্তিদের অপসারণ করা হয়। তখনই কানাডায় পাড়ি জমান জাবরি।

sheikh mujib 2020