advertisement
আপনি দেখছেন

সম্প্রতি লাদাখ সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দেয় ভারত। এর মধ্যেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে, এখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হলেও সীমান্তে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। তার পরেও নানা কারণে চীনা পণ্য বর্জনে সাড়া না থাকায় ব্যর্থ হচ্ছে এই রাজনৈতিক ডাক।

india vs chinaভারত বনাম চীন

ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে চীনা একাধিক অ্যাপ নিষিদ্ধ করে ভারত। আইপিএলের টাইটেল স্পনসর হিসেবে চীন মোবাইল কোম্পানির বদলে ভারতীয় সংস্থাকে নেয়া হয়। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের শীর্ষ নেতারা প্রতিনিয়ত চীনা পণ্য বয়কটের রাজনৈতিক আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারত ও চীন সীমান্তে অতিরিক্তি বিপুল সংখ্যক সৈন্য ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করলে উত্তেজনা আরো জটিল হয়। চলতে থাকে উভয় দেশের সরকারি পর্যায়ে পরস্পরকে দোষারোপের বুলি, যুদ্ধের হুঁশিয়ারিও। তবুও দুই দেশের সম্পর্ক বন্ধ হয়নি, অব্যাহত রয়েছে বাণিজ্যও।

বলা হচ্ছে, ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক দেশ হলো চীন। দেশ দুটির মধ্যে প্রতিবছর ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বাণিজ্য হয়। চীন যেমন ভারতের বিশাল বাজার হারাতে চায় না, তেমনি চীনের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না ভারতও। উত্তেজনার মধ্যেও উভয় দেশের যৌথ বিবৃতিতে এমনটিই উঠে এসেছে।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরের মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্যে কিছুটা ধাক্কা লেগেছে এবার। খানিক কমেছে আমদানি-রপ্তানিও। তবে তা এখন পর্যন্ত ৩ শতাংশের বেশি নামেনি। এর পেছনে কেবল সংঘাত নয়, বড় কারণ হচ্ছে করোনা।

চলতি অর্থবছর এই বাণিজ্য হ্রাস আরো বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা কোনো অবস্থাতেই ১০ শতাংশের বেশি হবে না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। এটি অংকে বড় মনে হলেও দেশ দুটির সার্বিক বাণিজ্যের বিবেচনায় তা একেবারেই মামুলি।

ডয়চে ভেলে বলছে, ডব্লিউটিও চুক্তির কারণে চীনা পণ্য বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না ভারত। ভারতীয় বাজারে এখনো সর্বত্র চীনা পণ্যে সয়লাভ। রাতে চীনা পণ্য বেচাকেনা আরো বাড়ছে। কম দামের কারণে চীনের জিনিসপত্র কেনার দিকেই ঝোক বেশি আর্থিক সংকটে থাকা ভারতীয়দের। করোনার কারণে এই প্রবণতা আরো বাড়ছে। ফলে চীনা পণ্য বয়কটের ভারতীয় ডাকে সাড়া নেই বা ব্যর্থই বলা যায়!

sheikh mujib 2020