advertisement
আপনি দেখছেন

করোনাভাইরাসের অন্তত দুটি নতুন ধরন এরই মধ্যে বেশে কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে দুশ্চিন্তা যখন বাড়ছে, তখনই জানা গেলো যে ব্রাজিলেও এই ভাইরাসের আরো একটি নতুন ধরন চিহ্নিত হয়েছে।

how the new strains of covid dangarous

গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, করোনাভাইরাসের নতুন ধরনগুলো আগের ধরনের চেয়ে বেশি সংক্রামক। কিন্তু এই ধরনগুলো আগের ধরের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক কি না, এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত দেখা যাচ্ছে।

গবেষকরা বলছেন, তাদের কাছে এমন কিছু প্রমাণ আছে, যাতে মনে হচ্ছে যুক্তরাজ্যে চিহ্নিত হওয়া নতুন ধরনটি অন্যান্য ধরনের চেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর হতে পারে। যদিও এটি এখনো কোনো সুনিশ্চিত বক্তব্য নয়।

নতুন ধরনগুলো আসলে ঠিক কেমন বিপজ্জনক তা নিশ্চিত হতে গবেষকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ল্যাবে সময় কাটাচ্ছেন।

নতুন ধরনগুলো আসলে কী?

করোনাভাইরাসের কয়েক হাজার ধরন আছে। কিন্তু সবই গবেষকদের জন্য সমান চিন্তার বিষয় নয়।

গবেষকদের চিন্তা মূলত এই কয়েকটিকে কেন্দ্র করে: ১. যুক্তরাজ্যের একটি ধরন— যা ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্যের অনেকের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে এবং বিশ্বের অন্তত ৫০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ২. একটি দক্ষিণ আফ্রিকান ধরন— যা অন্তত ২০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং যুক্তরাজ্যেও এই ধরনটি চিহ্নিত হয়েছে এবং, ৩. ব্রাজিলে চিহ্নিত হওয়া আরো একটি ধরন।

covid 19 new strain in south africa

এটা অপ্রত্যাশিত নয় যে এই ভাইরাসগুলো দ্রুত নিজেদের বদলে ফেলছে এবং টিকে থাকার জন্য নতুন নতুন রকমে আলাদা হয়ে যাচ্ছে।

এই ধরনগুলোর বেশির ভাগেরই কোনো ধারাবাহিকতা নেই। এর মধ্যে কোনো কোনো ধরন তার নিজের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে, বিপরীতে কোনো কোনো ধরন অকল্পনীয় রকমের সংক্রামক ও ভয়ঙ্কর হতে পারে।

নতুন ধরনগুলো কি বেশি বিপজ্জনক?

গবেষকরা বলছেন, এখন পর্যন্ত এ রকম কোনো সুনিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি যার উপর ভিত্তি করে এ কথা বলা যায় কোভিডের প্রাথমিক ধরনগুলোর চেয়ে নতুন ধরনগুলো বেশি বিপজ্জনক।

প্রাথমিক ধরনগুলোর ক্ষেত্রে যেভাবে বয়স্ক এবং নানা রোগে ভোগা ব্যক্তিরা করোনাভাইরাসের কাছে বেশি ভঙ্গুর, একইভাবে নতুন ধরনগুলোর ক্ষেত্রেও তাই।

কিন্তু যুক্তরাজ্য যে যে ধরনটি পাওয়া গেছে, সেটির ক্ষেত্রে কিছু গবেষণায় এটি বলা হয়েছে যে এই ধরনটি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ঝুকি তৈরি করে। কিন্তু এই গবেষণাগুলো এখনো পর্যাপ্ত তথ্য দিয়ে সম্পাদন হয়নি। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আরো বিস্তারিত গবেষণা চলমান রয়েছে।

covid 19 new strain in brazil

নিয়মিত হাত ধোয়া, অন্যদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা এবং মুখ ঢেকে রাখা এখনো সংক্রমিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। যেহেতু নতুন ধরনগুলো আরো বেশি সংক্রামক, সেহেতু গবেষকরা এখন আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

ভাইরাসের নতুন ধরনগুলোর আচরণ কেমন?

নতুন যে তিনটি ধরন চিহ্নিত হয়েছে— যুক্তরাজ্যের ধরন, দক্ষিণ আফ্রিকার ধরন ও ব্রাজিলে চিহ্নিত হওয়া ধরনগুলো আগের ধরনের তুলনায় অনেক বেশি সংক্রামক এবং সহজেই তা মানুষের সেলে প্রবেশ করতে পারে।

এই ধরনগুলোর স্পাইক প্রোটিন খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং এটিই মানুষের দেহে সহজেই প্রবেশ করতে সক্ষম।

এই কারণেই মূলত এই ধরনগুলো সহজেই ছড়ায় এবং অন্যদের সংক্রমিত করে।

গবেষকরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের ধরনটি গত সেপ্টেম্বরে গঠিত হয়েছে এবং এটি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি সংক্রামক। দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনটি গঠিত হয়েছে গত অক্টোবরে এবং এটির স্পাইক প্রোটিন যুক্তরাজ্যের ধরনটির তুলনায় বেশি ভয়াবহ হতে পারে। আর ব্রাজিলের ধরনটি গঠিত হয়েছে গত জুলাই মাসে। এটি অনেকটাই দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনের মতো।

ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও পর্তুগালের ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে।

এই ধরনগুলোর ক্ষেত্রে কি ভ্যাকসিন কাজ করবে?

এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যতোগুলো ভ্যাকসিন এসেছে, তার মধ্যে অন্তত দুটি ভাইরাসের যুক্তরাজ্য ধরনটি প্রতিরোধে কার্যকর। কিন্তু এ বিষয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।

বর্তমান ভ্যাকসিনগুলো করোনাভাইরাসের শুরুর দিকের ধরনের কথা বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু গবেষকরা বিশ্বাস করেন, নতুন ধরনগুলোর ক্ষেত্রেও ভ্যাকসিন কাজ করবে।

মডার্নার ভ্যাকসিন দক্ষিণ আফ্রিকান ধরনটি প্রতিরোধ করতে সক্ষম বলে ধারণা করা হচ্ছে। মডার্না অবশ্য ভাইরাসের নতুন ধরনগুলোর জন্য আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরির উদ্যোগও গ্রহণ করেছে।